কলকাতা: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে আজ ক্যাথিড্রাল রোডে সভা ছিল ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর। আর সেই সভা থেকে বর্তমান রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন তুলেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি তো সেই পাড়াতেই থাকি, জন্ম থেকে যেখানে থাকি। আমাকে তো কোনও দিন পাড়া বদলাতে হয়নি। প্রতিদিন রাত ১০ টায় ইচ্ছা করে মদ খাইয়ে দুটো পাগল পাঠিয়ে দিচ্ছে আমার বাড়িতে। উল্টোপাল্টা গালাগাল দিচ্ছে আর হামলা করছে। এই সব করতে করতে মনে রাখবেন, মাতালদের দিয়েও কাজ করাচ্ছেন?”
এরপরই তাঁর মুখে শোনা যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গ। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ভাণ্ডার আমরা খুলতে এখনও শুরু করিনি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেড়ে নিলে আপনাদের ভাণ্ডারও খুলব। আমাদের আমলে আপনি পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন। হলদিয়া উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। আপনাদের বাবা দিঘা ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। আপনি সেচ মন্ত্রী ছিলেন। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুরের শিক্ষকের চাকরির দায়িত্ব আপনি নিয়েছিলেন। ভাণ্ডার খুলব? হয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিন, নাহলে আপনার ভাণ্ডার খুলতে দিন। আপনাদের ভাণ্ডার খুলতে দিন।”
আরও পড়ুন: বিপর্যয়ের পাঁচ মাস আগেই সতর্কবার্তা, ভয়াবহ ভাবে গলছে হিমালয়ের হিমবাহ, প্রকাশ্যে দুই রিপোর্ট
এদিন বলতে বলতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি এতটা নীচ রাজনীতি করি না। তাই আজ পর্যন্ত জ্যোতি বাবুর বিরুদ্ধে কিছু বলিনি কোনও দিন। বুদ্ধদেব বাবুর বিরুদ্ধে বলিনি। মানুদার বিরুদ্ধে বলিনি, প্রফুল্লদার বিরুদ্ধে বলিনি। সবাইকে সম্মান দেখিয়েছি। আপনারা চুরি করে এসেছেন তো, সম্মান দেখাবেন কীভাবে? সম্মান কাউকে দিতে না পারে, অসম্মান কাউকে করবেন না।”
অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ত্যাগ করেছেন, সেই ২০ জন সাংসদের পদ খারিজ করিয়েই তিনি দেখাবেন। তিনি বলেন, “আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি আপনাদের, আমি ২০ জন সাংসদের পদ খারিজ করে দেখিয়ে দেব। দেখাবই আমি দেখাব। আমি বারবার বলেছি, আর আগামী ১ বছরে মধ্যে এই ২০ টা সিটে আবার নির্বাচন করে আবার দেখিয়ে দেব। দেখব শুভেন্দু অধিকারীর কত বড় ক্ষমতা আছে। তাকে ছাড়া নেই।”