কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে জল গড়িয়েছে অনেকদূর। বিজেপির বিরুদ্ধে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ঢুকে হামলার অভিযোগ করেছিলেন অভিষেক। এবার ক্যামাকস্ট্রিট অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে এবার সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা এবার মমতাকে তোপ দাগলেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার।
আরও পড়ুন, কলকাতা পুরভোটে BJP-র সঙ্গে NCPI-এর আসন সমঝোতার স্বপ্ন ভেঙে কি চুরমার ? একলা চলার পক্ষে সওয়াল শমীকের
এদিন মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, কলকাতার বুকে যারা, মধ্যরাতে বর্বরতা করতে পারেন, সারা গ্রাম বাংলায় কী হচ্ছে, একবারও বুঝতে পারছেন ? গ্রামবাংলায় আমাদের ৪ হাজার অফিস জোরকরে আপনারা দখল করেছেন, কাগজপত্র লুঠ করেছেন, এমনকি চেয়ার টেবিটাকেও ছাড়েননি ? গতকাল মধ্যরাতেও, কলকাতার বুকের উপর, পুলিশের স্টেশনের নাকের ডগায়, গিরগিটির দল, লুঠেরার দল, অর্ধ-শিক্ষিতের দল, সংষ্কৃতি না জানা দল, লুঠ করে জিতেছেন বলেই সব লুঠ করতে চলে গেছেন ?’
অপরদিকে, এদিন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার (Debjit Sarkar) বলেন, গত ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে, যাযা করেছেন, তার বিরুদ্ধে যাযা অভিযোগ মানুষের আছে এখনও পর্যন্ত, সেগুলির থেকে বাঁচার জন্য, সেগুলির অভিমুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য, একই ধরণের অভিযোগ তিনি বিজেপি দলের উপর বা বিজেপির বিধায়কদের দ্বারা তৈরি সরকারের উপর আনছেন। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ ?! সেইসময়ে ..গত নির্বাচনের পরে, মানে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরে, প্রথম তেইশ দিনে ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়ে গিয়েছিলেন, দেড়শোর উপরে মহিলা ধর্ষিতা হয়ে গিয়েছিলেন। কে তার উত্তর দেবে ? সুতরাং এইসব কথা এখন না বলাই ভাল। উনি যেগুলি করছেন, সেগুলি সিলেকটিভ প্রপাগান্ডা। আইন আইনের পথে চলবে। রাজ্যে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং ওদের কথায় কেউ কান দিচ্ছেন না, মমতা দিদিকেও কেউ পাত্তা দিচ্ছেন না।’
ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিসের ওপরে বিল বোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার অফিসারদের সঙ্গে তীব্র বচসা বাধে। এবার উঠল, এই বিল্ডিংয়ের একাংশ দখলের অভিযোগ।বিল্ডিং মালিকের দাবি, ২০২০ সালে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের বাড়ির মালিকের সঙ্গে চুক্তি হয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের।চুক্তিতে সই করেন বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী৷বাড়ি মালিকের অভিযোগ, লিজে যে শর্ত ছিল, তা মানা হয়নি। আইনজীবীর দাবি, মালিকের তরফ থেকে কমপ্লিশন সার্টিফিকেট বা CC-র জন্য বারবার বলা হয়। অভিযোগ, তারপরও প্রভাব খাটিয়ে জোর করে ২টি ফ্লোর দখল করা হয়েছে।