মহালয়া মানেই শুধু একটি দিন নয়, এটি আপামর বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার এক মেলবন্ধন।

মহালয়া মানেই শুধু একটি দিন নয়, এটি আপামর বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার এক মেলবন্ধন।

আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষ জুড়ে চলে পিতৃপক্ষ। এই ১৫ দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।

আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষ জুড়ে চলে পিতৃপক্ষ। এই ১৫ দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।

বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে মৃত পূর্বপুরুষেরা পৃথিবীতে ফিরে আসেন। তাঁদের তুষ্ট করলে আত্মা শান্তি পায়, আর সন্তুষ্ট হয়ে পরিবারকে আশীর্বাদ করেন সমৃদ্ধির জন্য।

বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে মৃত পূর্বপুরুষেরা পৃথিবীতে ফিরে আসেন। তাঁদের তুষ্ট করলে আত্মা শান্তি পায়, আর সন্তুষ্ট হয়ে পরিবারকে আশীর্বাদ করেন সমৃদ্ধির জন্য।

পরলোকগত প্রিয়জনের আত্মার তৃপ্তিসাধনে উত্তরপুরুষের জলদানের যে রীতি, তাই তর্পণের মূল। ওঁ (নমঃ) অগ্নিদগ্ধশ্চ যে জীবাঃ যেহপ্যদগ্ধা কুলে মম। ভূমৌ দক্তেন তৃপ্যন্তু তৃপ্তা যান্তু পরাং গতিম। অর্থাৎ আমার বংশে যে সকল জীব অগ্নিদ্বারা দগ্ধ হয়েছেন, অর্থাৎ যাঁদের দাহ-সংস্কারকার্য হয়েছে এবং যাঁরা দগ্ধ হননি, অর্থাৎ কেউ যাঁদের দাহ-সংস্কার করেনি, তাঁরা আমার এই জল গ্রহণ করে তৃপ্তি লাভ করুন এবং তৃপ্তিলাভের মাধ্যমে পরাগতি অর্থাৎ স্বর্গলোক লাভ করুন।

পরলোকগত প্রিয়জনের আত্মার তৃপ্তিসাধনে উত্তরপুরুষের জলদানের যে রীতি, তাই তর্পণের মূল। ওঁ (নমঃ) অগ্নিদগ্ধশ্চ যে জীবাঃ যেহপ্যদগ্ধা কুলে মম। ভূমৌ দক্তেন তৃপ্যন্তু তৃপ্তা যান্তু পরাং গতিম। অর্থাৎ আমার বংশে যে সকল জীব অগ্নিদ্বারা দগ্ধ হয়েছেন, অর্থাৎ যাঁদের দাহ-সংস্কারকার্য হয়েছে এবং যাঁরা দগ্ধ হননি, অর্থাৎ কেউ যাঁদের দাহ-সংস্কার করেনি, তাঁরা আমার এই জল গ্রহণ করে তৃপ্তি লাভ করুন এবং তৃপ্তিলাভের মাধ্যমে পরাগতি অর্থাৎ স্বর্গলোক লাভ করুন।

নানাবিধ তর্পণ করতে হয় এই পুণ্যদিনে। দেবতাদের উদ্দেশে (দেবতর্পণ) প্রথমে জলদান করতে হয়। তারপরে মনুষ্যতর্পণ, ঋষিতর্পণ, দিব্যপিতৃতর্পণ, যমতর্পণ, ভীষ্মতর্পণ, পিতৃতর্পণ ইত্যাদি। রয়েছে রাম-তর্পণের বিধি। বিশ্বাস, বনবাসে শ্রীরামচন্দ্র এই তর্পণ করতেন।

নানাবিধ তর্পণ করতে হয় এই পুণ্যদিনে। দেবতাদের উদ্দেশে (দেবতর্পণ) প্রথমে জলদান করতে হয়। তারপরে মনুষ্যতর্পণ, ঋষিতর্পণ, দিব্যপিতৃতর্পণ, যমতর্পণ, ভীষ্মতর্পণ, পিতৃতর্পণ ইত্যাদি। রয়েছে রাম-তর্পণের বিধি। বিশ্বাস, বনবাসে শ্রীরামচন্দ্র এই তর্পণ করতেন।

তর্পণের জন্য কুশ ও কালো তিল, যব জোগাড় করতে হবে। কুশ ও তিল না পেলে শুধু জল সহযোগেও তর্পণ করার রীতি রয়েছে। তর্পণের আগে  কুশের আংটি বানিয়ে অনামিকায় পরতে হবে। নিতে হবে কোশাকুশি। তিল, হরিতকী, জল ও তুলসীপাতা সহযোগে তর্পণ করতে পারবেন। লাগবে গঙ্গামাটি। মাথায় গঙ্গামাটির তিলক বা গোলটিপ পরে নিতে হবে।

তর্পণের জন্য কুশ ও কালো তিল, যব জোগাড় করতে হবে। কুশ ও তিল না পেলে শুধু জল সহযোগেও তর্পণ করার রীতি রয়েছে। তর্পণের আগে কুশের আংটি বানিয়ে অনামিকায় পরতে হবে। নিতে হবে কোশাকুশি। তিল, হরিতকী, জল ও তুলসীপাতা সহযোগে তর্পণ করতে পারবেন। লাগবে গঙ্গামাটি। মাথায় গঙ্গামাটির তিলক বা গোলটিপ পরে নিতে হবে।

হিন্দু ধর্মে তর্পণের নানা প্রকারের উল্লেখ রয়েছে— দেব তর্পণ, ঋষি তর্পণ, মাতৃ তর্পণ, ভীষ্ম তর্পণ ইত্যাদি। তবে পিতৃ তর্পণই সবচেয়ে প্রচলিত। অনেকেই একে পিতৃযজ্ঞও বলেন।

হিন্দু ধর্মে তর্পণের নানা প্রকারের উল্লেখ রয়েছে— দেব তর্পণ, ঋষি তর্পণ, মাতৃ তর্পণ, ভীষ্ম তর্পণ ইত্যাদি। তবে পিতৃ তর্পণই সবচেয়ে প্রচলিত। অনেকেই একে পিতৃযজ্ঞও বলেন।

তর্পণ শব্দের অর্থই সন্তুষ্ট করা। মন্ত্রোচ্চারণ করে কুশ, তিল মেশানো জল, চাল, দুধ, সাদা ফুল একত্রে নিবেদন করা হয় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে।

তর্পণ শব্দের অর্থই সন্তুষ্ট করা। মন্ত্রোচ্চারণ করে কুশ, তিল মেশানো জল, চাল, দুধ, সাদা ফুল একত্রে নিবেদন করা হয় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে।

সাধারণত দক্ষিণ মুখে বসে, হাতে কুশ নিয়ে ‘ওম আগচ্ছন্তু মে পিতর, গ্রহন্তু জলাঞ্জলিম’ মন্ত্র পাঠ করে জল অর্পণ করতে হয়।  তর্পণের বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে। তা মেনে তর্পণ করতে হয়। অন্যথায় ফলপ্রাপ্তি তো হয়ই না, পূর্বপুরুষেরা রুষ্ট হতে পারেন বলেও মনে করা হয়।

সাধারণত দক্ষিণ মুখে বসে, হাতে কুশ নিয়ে ‘ওম আগচ্ছন্তু মে পিতর, গ্রহন্তু জলাঞ্জলিম’ মন্ত্র পাঠ করে জল অর্পণ করতে হয়। তর্পণের বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে। তা মেনে তর্পণ করতে হয়। অন্যথায় ফলপ্রাপ্তি তো হয়ই না, পূর্বপুরুষেরা রুষ্ট হতে পারেন বলেও মনে করা হয়।

Published at : 09 Oct 2026 11:20 PM (IST)

আরও জানুন জ্যোতিষ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *