কলকাতা: ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে তৃণমূলের পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ। সেই নির্মাণ ভাঙতে টালিগঞ্জে পৌঁছেছিল বুলডোজারও। সেই নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয় স্থানীয়দের। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে ফিরে গেল বুলডোজার শেষ পর্যন্ত। আর তাতেই উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙতে দেখা গেল। বুলডোজারকে পিছু হটতে দেখে আনন্দে মেতে ওঠেন স্থানীয়রা। (Tollygunge Bulldozer Action)

টালিগঞ্জের সতীশ মুখার্জি রোডের ঘটনা। এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বেআইনি ভাবে ওয়াকফের জমি দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করেছিল তৃণমূল। সেখানে ওই নির্মাণটি ভাঙতে পৌঁছয় পুলিশ। নির্মাণ ভাঙতে পৌঁছয় বুলডোজারও। কেন্দ্রীয় বাহিনীও নামানো হয় সেখানে। কিন্তু সেখানে পুলিশ এবং বুলডোজার দেখে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয় স্থানীয়দের। অভিযোগকারীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি তেতে ওঠে। (Kolkata News)

আরও পড়ুন: দিকে দিকে বিজেপি-র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ফাটল মাথাও, ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বলল, ‘এরা কি সেই সুযোগসন্ধানী…?’

স্থানীয়রা দাবি করেন, ওই নির্মাণ তৃণমূলের পার্টি অফিস নয়। বরং সেটি একটি বাড়ি, মানুষ থাকেন। বাড়িটির চারিদিকে বাঁশের কাঠামো চোখে পড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ছবিও এবং তৃণমূলের প্রতীকচিহ্নও দেখা যায়। কিছু নোটিসও সাঁটা ছিল দেওয়ালে। ‘আশ্রিতা’, ‘কলরব’ লেখাও চোখে পড়ে। নির্মাণটি ভাঙতে বুলডোজার আনা হয় বলে জানায় পুলিশ। কিন্তু সেই নিয়ে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। কান্নায় ভেঙেও পড়েন কয়েকজন মহিলা।

অভিযোগকারী ব্যক্তি বলেন, “ওই সব দুষ্কৃতী, ক্রিমিনাল…সব দখল করে বসে আছে। আমি এখানকার মতুয়ালি সেক্রেটারি। ওয়াকফ এটা, হেরিটেজ। ওটা তৃণমূলের পার্টি অফিস ছিল। দখল করে বানিয়েছে।” যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁরা জানান, ওই নির্মাণ তাঁদের আশ্রয়স্থল। সেটিকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এক মহিলা বলেন, “আমরা থাকব কোথায়? পার্টি অফিস ছিল না কোনও। এমনি ছবি লাগানো হয়েছিল। আসলে ঘরই। লোক থাকত। ওই তো জিনিসপত্র নামানো হচ্ছিল। কোথায় যাবে গরিব মানুষ? অনেকজন থাকতেন।”

আরও পড়ুন: মাস্ক পরার দিন ফিরল, সোয়াইন ফ্লু অ্যালার্ট জারি দিল্লিতে, কাদের ঝুঁকি বেশি? অ্যান্টিবায়োটিক কি খাবেন?

সেই নিয়ে উত্তেজনার পারদ যখন চড়ছে, হঠাৎই পিছু হটতে শুরু করে বুলডোজার। পুলিশ জানায়, পুরসভা জানিয়েছে, ওই বেআইনি নির্মাণ ভাঙায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বুলডোজার সরিয়ে ফিরে যায় পুলিশ। আর তাতেই উচ্ছ্বাস বাঁধ ভাঙে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি ঝুলছিল। আদালতের স্থগিতাদেশে খুশি তাঁরা। পুলিশ এবং বুলডোজারকে পিছু হটতে দেখে আনন্দে জয়ধ্বনি দেন অনেকে। শিসও শোনা যায়। এক মহিলা বলেন, “আমার অনেক লোক। গরিব মানুষ। থাকার জায়গা নেই। খুব খুশি আমরা।” 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *