সৌভিক মজুমদার, কলকাতা : কলকাতা পুরভোট শুরুর আগে এবার আইনি লড়াই। কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন বাতিল চেয়ে এবার মামলা করা হল। মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি। মামলাকারী দাবি করেছেন, কলকাতায় ১৪৪ থেকে আসন বেড়ে ২০৯, এই পুনর্বিন্যাস একতরফা, সাযুজ্য নেই বিন্যাসে। যুক্তিহীন আসন বিন্যাসে প্রশ্ন তুলে মামলা দায়ের করেছেন কসবার বাসিন্দা। চলতি সপ্তাহেই শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত…
মূলত এই মামলায় যে আবেদন করা হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, এই যে কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, এই পুনর্বিন্যাস কোনও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে করা হয়নি। কার্যত মর্জিমাফিক বা খামখেয়ালিভাবে এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এটাই এই মামলার মূল বক্তব্য। এছাড়াও মামলাকারীর বক্তব্য হল, এতদিন পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ড ছিল, এই ওয়ার্ডগুলিতে পরিষেবার ক্ষেত্রে কোথাও কোনও খামতি ছিল না। হঠাৎ করে ৬৫টি ওয়ার্ড বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে, সেই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং অবৈজ্ঞানিক বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই যে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে, তার ফলে এই কলকাতা পুরসভার যে বাসিন্দারা রয়েছেন তাঁরা আদৌও কোনও বাড়তি সুবিধা পাবেন না। বরং তাঁরা আরও অসুবিধার মধ্যে পড়বেন। তাঁদের বক্তব্য হল, যে পৌর পরিষেবা তাঁরা এতদিন অতি সহজেই পেয়ে আসছেন, সেই পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার যে কথা বলা হচ্ছে…যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কারণে, সেই ধরনের কোনও কাজ এই ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে না বলে তাঁরা মনে করছেন। সেইজন্যই ডিলিমিটেশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁরা হাইকোর্টে গিয়েছেন। বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই শুনানি শুরু হবে। Kolkata News
কালীপুজোর পরই বেজে যাবে পুরভোটের দামামা। নভেম্বরের শেষে কলকাতা ও হাওড়া পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই অবস্থায় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। শনিবার শেষ হয়েছে শাসকদলের পুরভোট প্রস্তুতির ২ দিনের বৈঠক। অন্যদিকে, তৈরি রয়েছে বিরোধীরাও। রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের ৬-৭ মাসের মধ্যেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় ভোট হবে। ইতিমধ্যে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হয়েছে। অন্যদিকে, হাওড়া পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে কোনও নির্বাচন হয়নি। এই অবস্থায় সবপক্ষই পুরভোটকে সামনে রেখে ঝাঁপাতে তৈরি।