কাদের ঝুলিতে জোড়াফুলের প্রতীক? নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে কোন শিবিরের কাছে যাবে প্রতীক? শনিবার প্রথমে  ১ ঘণ্টার বৈঠক হয় ঋতব্রত তৃণমূল-এর সঙ্গে। তারপর কালীঘাট তৃণমূল-এর সঙ্গে বৈঠকে বসে কমিশন। নেতৃত্ব দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্য রেখেছি। কী কী বলেছি আমি রিপিট করব না। ইলেকশন কমিশন সেটা বিবেচনা করবেন। হয়ত একটা ইন্টেরিম অর্ডার দিতে পারেন। ‘    

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানান, প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক হয় ( মাঝে কিছুটা বিরতি ছিল )। সব মিলিয়ে দু’ঘণ্টারও বেশি সময় তাঁরা কথা বলেন। তিনি বলেন, বৈঠকে ঠিক কী কী বক্তব্য রেখেছেন তিনি, তা আবার সর্বসমক্ষে বলতে চাননি তিনি। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করছে।  তিন মনে করছেন,হয়তো একটি ইন্টারিম অর্ডার দেওয়া হতে পারে। কী ইন্টারিম অর্ডার দেওয়া হবে, সেই নিয়ে কোনও পূর্বাভাস করতে চাননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান,  সেটা দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। তারপর যা করার, তাঁরা তাই করবেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের কাছে কোনও নতুন নথি চাওয়া হয়নি। তাঁরা একটি ডকুমেন্ট দিয়েছেন। কল্যাণ বলেন, ‘ আমরা এটাও বলেছি যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে কোনও ‘ফার্দার ডকুমেন্ট’ আসেনি। তাই ঋতব্রতরা এদিন যদি  নির্বাচন কমিশনকে কোনও নথি দিয়ে থাকেন, সেই নথি সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানেন না। তাই সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। 

তৃণমূলের প্রতীক ও তহবিলের ওপর কাদের অধিকার? ‘কালীঘাট-তৃণমূল’? না ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’? ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগেই কি সেই ফয়সালা হয়ে যেতে পারে? জল্পনা উস্কে শনিবার  তৃণমূলের দুই শিবিরের সঙ্গে বৈঠকে বসে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দুই শিবিরের পাঁচজন করে প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতে সম্মতি দেয় কমিশন। সেই মতোই হয় বৈঠক। 

এখন কী ঘটতে পারে ?  প্রতীক কার হাতে থাকবে ? হবে কি শনিবার ফয়সালা ? সূত্র বলছে, উপনির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ফয়সালার সম্ভাবনা কম ।  তৃণমূলের দুই শিবিরের সঙ্গেই বৈঠক করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন । তার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে পারে কমিশন, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও তেমনটাই পর্যবেক্ষণ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কারও কারও মতে, আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক। উপনির্বাচনে লড়তে দু-পক্ষকে অস্থায়ী নাম ও প্রতীক দিতে পারে কমিশন । এখন কী হয় সেটাই দেখার।

এর আগে বৈঠক সেরে বেরিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,  প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন তাঁরা। কমিশন আরও কিছু নথি চেয়েছেন। তাও তারা জমা করে  দিচ্ছেন। ঋতব্রত জানান, সারা রাজ্যেই তৃণমূল দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁদের। সেই সঙ্গে ঋতব্রতর দাবি, বিকল্প প্রতীকের কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তাঁর কোনও আলোচনা হয়নি।  কমিশনকে তিনি এই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেছেন তাঁরা । 

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *