সুদীপ চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর: কালীপুজোর রাতেই হয় প্রতিমা তৈরি। পুজোও হয় ওই রাতেই। আবার বিসর্জনও হয় রাতেই। সূর্যের আলো দেখেন না দেবী প্রতিমা। এমনই এক অভিনব রীতি চলে আসছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের দেবীনগর কালীবাড়িতে। প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মন্দিরে চলে আসছে দীপান্বিতা অমাবস্যার বিশেষ কালীপুজো। শুধু রায়গঞ্জ নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকেও বহু ভক্তের সমাগম হয় এই মন্দিরে।           

আরও পড়ুন: বাড়ি ফিরেই চার্জে দিচ্ছেন আপনার ইলেকট্রিক স্কুটার? বিপদ বাড়তে পারে আপনারই

দেবীনগর কালীবাড়ির অন্যতম বিশেষত্ব হল, এই মন্দিরের কোনও ছাদ নেই। সারা বছর ছাদহীন মন্দিরের কালী বেদিতে পুজো হয়। তবে দীপান্বিতা অমাবস্যায় সম্পূর্ণ আলাদা নিয়মে পুজোর আয়োজন করা হয়। কালীপুজোর দিন সূর্যাস্তের পর শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। রাতের মধ্যেই প্রতিমা তৈরি করে পুজো সম্পন্ন করা হয়। এরপর সূর্যোদয়ের আগেই বিসর্জন দেওয়া হয় দেবী প্রতিমাকে। অর্থাৎ, প্রতিমা তৈরির পর থেকে বিসর্জন পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় এক রাতের মধ্যেই।           

কথিত আছে, একসময় এই পুজো ডাকাতদের পুজো হিসেবে পরিচিত ছিল। পরে ডাকাতরা পুজো করা বন্ধ করে দিলে অবিভক্ত দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায় এই পুজোর দায়িত্ব নেন। একবার দেবীনগরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়িতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। সেই সময় স্বপ্নাদেশে দেবী তাঁকে ছাদহীন মন্দির তৈরি করে পুজোর আয়োজন করার নির্দেশ দেন। এরপরই রাজপথের ধারে নির্মিত হয় এই মন্দির।           

আরও পড়ুন: বাবা-মায়ের স্বপ্নের উল্টো পথে হেঁটে পড়লেন পাবলিক সার্ভিসের জন্য, অবশেষে কোনও কোচিং ছাড়াই সরকারি আধিকারিক হলেন বিহারের আস্থা

এই মন্দিরের পুজোয় রয়েছে আরও কিছু বিশেষ নিয়ম। বৈষ্ণব মতে দেবী কালীর আরাধনা করা হয়। আগে বলি প্রথা চালু থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ। দেবীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় লুচি, সুজি, মিষ্টি, ফল এবং পাঁচ রকমের ভাজা। কালীপুজো উপলক্ষে মন্দির চত্বরে শুরু হয়েছে প্যান্ডেল বাঁধার কাজ। উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে সাজোসাজো রব। পুজোর রাতে দেবীর দর্শন পেতে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *