কলকাতা: ২০-র দুই তৃতীয়াংশ হল ১৪। সেখানে ১৭ জন বিজেপিতে যোগ দিলে, দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়তে হবে না। কার্যত অঙ্ক কষে এমনটাই দাবি করলেন NCPI সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া। কিন্তু বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা তো আলাদা দলের স্বীকৃতিই পাননি! লোকসভায় খাতায় কলমে তাঁরা এখনও তৃণমূল সাংসদই। সেক্ষেত্রে কি জগদীশ বসুনিয়ার এই যুক্তি খাটে? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

জগদীশ বাসুনিয়ার যুক্তি কি আদৌ খাটে?

NCPI সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়ার এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এখন জোর চাঞ্চল্য়! শুধু বিজেপিতে যোগ দেওয়াই নয়, কীভাবে দলত্য়াগ বিরোধী আইন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য় হবে না, অঙ্ক কষে সেই দাবিও করছেন কোচবিহারের বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ! কিন্তু NCPI সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়ার এই দাবিতে, বেশ কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। এর উত্তরে জগদীশ বাসুনিয়া বলছেন, ‘না একবারে ২০ ভেঙে আমরা তো অলরেডি মার্জ করছি। আমরা এখন NCPI. NCPI ২০ থেকে ১৪ জন গেলেই হল। ৩ ভাগ। মানে দুই তৃতীয়াংশ হলে কত হয়? ২০-র দুই তৃতীয়াংশ। সাড়ে ১৩ হলে হয়। (আমরা) ১৪ জন। আমার আছে হল ১৭ জন। সেইক্ষেত্রে আমরা আর দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়ব না।’

NCPI-তে যোগ দিলেও, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা এখনও স্বীকৃতি পাননি

কিন্তু, NCPI-তে যোগ দিলেও, এই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা তো এখনও স্বীকৃতিই পাননি! লোকসভায় খাতায় কলমে এখনও তাঁরা তৃণমূল সাংসদই, NCPI সাংসদ নন!তাহলে এই সব দাবি কী করে করছেন জগদীশ বাসুনিয়া? এই বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকার বলছেন, ‘২/৩ হত যদি ১৯ জন হত, সেখানে ১৭। কিন্তু উনি যেটা বলছেন ২০-র মধ্যে ২/৩, সেটার তো কোনও বাস্তবতা নেই। ওরা তো এখনও খাতায় কলমে তৃণমূলের। আইনি ভিত্তি নেই। পার্টির অস্তিত্ব নেই। স্পিকার যদি আগামী দিনে ওকে স্বীকৃতিও দেয়, তাহলেও বিচারবিভাগের কাছে প্রশ্ন উঠবে, পরিকল্পনামাফিক, ডিভোর্স করে ফের বিয়ে করলাম। বিয়ে ভাঙলাম, দ্বিতীয় বিয়ে করব বলে।’

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

এই বিষয়ে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাদ মামুদ বলছেন, ‘যারা দলত্যাগ করেছে, তারা এই দাবি করতেই পারে, ২০-এর মধ্যে ১৭জন বিজেপিতে চলে গেল। কিন্তু NCPI-র বিষয়টা যেহেতু ফয়সালা হয়নি, কালীঘাট তৃণমূল আদালতে গেছে। এবার জগদীশ যেটা বললেন A থেকে B হলে B থেকে C হলেন। এটা না হওয়ারই কথা। স্পিকারের ভূমিকা আছে, বিচারবিভাগের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ++ এই করে করে ২৯ পর্যন্ত চলে গেলেই তো ভোট এসে গেল।২/৩ হত যদি ১৯ জন হত, সেখানে ১৭। কিন্তু উনি যেটা বলছেন ২০-র মধ্যে ২/৩, সেটার তো কোনও বাস্তবতা নেই। ওরা তো এখনও খাতায় কলমে তৃণমূলের। আইনি ভিত্তি নেই। পার্টির অস্তিত্ব নেই। স্পিকার যদি আগামী দিনে ওকে স্বীকৃতিও দেয়, তাহলেও বিচারবিভাগের কাছে প্রশ্ন উঠবে, পরিকল্পনামাফিক, ডিভোর্স করে ফের বিয়ে করলাম। বিয়ে ভাঙলাম, দ্বিতীয় বিয়ে করব বলে।’

রাজনীতিতে দল ভাঙানো! এক দলের বিধায়ক-সাংসদকে অন্য় দলে টেনে আনা কিংবা তাঁদের এক দলে যোগ দিয়ে অন্য় দলে চলে যাওয়া, এসব আকছার হয়! কিন্তু হওয়া কি উচিত? নীতি-নৈতিকতা বলে কিছুই কি আর থাকবে না? এই প্রশ্ন কিন্তু এখনও পুরোপুরি চাপা পড়ে যায়নি!

আরও পড়ুন: Sushant Singh Rajput: সুশান্তের আপ্তসহায়ক দিশা সালিয়ানের হত্যা মামলায় নয়া মোড়! জড়িয়ে গেল রিয়া, দিনো মারিয়া, সূরজ পাঞ্চোলির নাম?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *