দীপক ঘোষ ও ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা: যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলে পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়লেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। যাদবপুর ক্য়াম্পাসে তাণ্ডব নিয়ে বলতে গিয়ে, সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, মতপার্থক্য় থাকলেও কোনওদিন ওদের অশ্রদ্ধা করিনি। কারণ ওরা আমার বন্ধু। এতেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যাদবপুরের পড়ুয়াদের কীভাবে আক্রমণ করতেন, তা কি তিনি ভুলে গেছেন?
রাতের তাণ্ডবের পাঁচ দিন পরও টানাপোড়েনের কেন্দ্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়।অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, দাবি-পাল্টা দাবি, মিছিল, পাল্টা মিছিল ঘিরে ঘটনার পর পঞ্চম দিনেও পারদ রয়েছে সপ্তমেই। এর মধ্য়ে যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, আপনাদের মনে করিয়ে দিই, যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের এমব্লেমটা পর্যন্ত আপনারা নষ্ট করেছেন। বাইরে থেকে আগুন জ্বালিয়েছেন এবং বলছেন ছাড়ব না। ‘পঞ্চায়েত মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চলছে তো, দরকার হলে পুরো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে। কোনও দেশদ্রোহী আর সমাজবিরোধীকে আমরা ওইরকম শিক্ষাঙ্গনে দাদাগিরি করতে দেব না। তো সংঘর্ষ হবেই।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের তাণ্ডবের সমালোচনা করতে গিয়ে, নিজের জমানার কথাও টেনে এনেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, ‘আমার সাথে মতপার্থক্য় থাকতে পারে। কখনও কখনও হয়েছে। কিন্তু, আমি কোনওদিন ওদের অশ্রদ্ধা করিনি। কারণ, ওরা আমার বন্ধু। ছাত্রছাত্রীরা। ওরা যখন অনশন করছিল, আমি ওদের কাছে ছুটে গেছিলাম। ‘এই প্রেক্ষিতেই অনেকে পাল্টা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন এই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কীভাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আক্রমণ করতেন।
বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ইস্য়ুতে, বারবার তৎকালীন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নিশানায় পড়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়। এখন ক্ষমতাচ্য়ূত হওয়ার পর মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সুর বদলে গেছে। ২০১৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ছাত্রদের অবস্থান-বিক্ষোভ চলাকালীন, মধ্য়রাতে নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছিল পুলিশ। মেয়েদের ওপর নির্মমভাবে লাথি, ঘুসি চালানো হয়। সেই সময় মুখ্য়মন্ত্রীর ছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তারপরই ‘হোক কলরব’ আন্দোলন নাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্য় রাজনীতিকে।এরপর ২০২৩ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের মেন হস্টেলে এক ছাত্রের মৃত্য়ুতে ragging-এর অভিযোগ উঠেছিল। তারপরও যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়কে নিশানা করেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।
অতীতে তেইশে সালে সরকারে থাকাকালীন তৎকালীন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছিলেন, ওখানে পুলিশ ঢুকতে দেয় না। সিসিটিভি লাগাতে দেয় না। ragging করে। যাদবপুর এখন আতঙ্কপুর। অনেক জায়গায় গেলেও, যাদবপুরে আমি যেতে চাই না। প্রশ্ন উঠছে, যাদবপুর ক্য়াম্পাসে এবারে তাণ্ডবের সমালোচনা করে কি, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় অতীত ভুলিয়ে দিতে চাইছেন? সব মিলিয়ে যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলে এখন পাল্টা প্রশ্নের মুখে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।