মুম্বই: ভারতে থাকতে চান, নিজের কাজ ও পরিবারও এ দেশেই। কিন্তু সেই আবেদনেই আপাতত পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। মুম্বইয়ে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছিল ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা। সোমবার মামলার শুনানিতে তাঁকে কড়া বার্তা দিল বম্বে হাই কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে শুধু লিখিত মুচলেকা দিলেই হবে না, নিঃশর্ত ক্ষমাও চাইতে হবে।

কেন আইনি জটিলতায় ইমরান খান?

ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। মুম্বইয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে Cockroach Janata Party (CJP)-র আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেতা ইমরান খান। সেই কর্মসূচি থেকেই তাঁকে আটক করে মুম্বই পুলিশ। অভিযোগ ওঠে, Overseas Citizen of India (OCI) কার্ডধারী হয়েও ভারতে রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন তিনি।

এর পর বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া এফআইআর বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন সংক্রান্ত দফতর বা Foreigners Regional Registration Office (FRRO)-এর কাছে পাঠানো হয়। পরে ১৪ অক্টোবর ইমরান খানের বিরুদ্ধে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’ জারি করে FRRO। ওই নোটিসে তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টে মামলা করেন অভিনেতা। ২৮ অক্টোবর আদালত সাময়িকভাবে ওই নোটিসের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। সোমবার সেই অন্তর্বর্তী সুরক্ষার মেয়াদ আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে অভিনেতাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

‘শুধু আশ্বাসে হবে না, ক্ষমা চাইতে হবে’

সোমবার শুনানিতে ইমরান খানের আইনজীবী আদালতকে জানান, অভিনেতার প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজকদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি ওই সংগঠনের সদস্যও নন। ভবিষ্যতে এমন কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে হলফনামা জমা দিতেও প্রস্তুত তিনি। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয়, শুধু এই ধরনের লিখিত আশ্বাস যথেষ্ট নয়। তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। তা সত্ত্বেও এত বছর তিনি কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেননি। তাহলে হঠাৎ এখন কেন এমন কর্মসূচিতে যোগ দিলেন? আদালত আরও মনে করিয়ে দেয়, তিনি OCI কার্ডধারী। ভারতীয় নাগরিকদের মতো রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অধিকার তাঁর নেই।

শুনানিতে আদালতের মন্তব্য, কোনও ভারতীয় নাগরিক বিদেশে গিয়ে একই ধরনের কাজ করলে তাঁকেও পরিণতির মুখে পড়তে হত। এমনকী আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আমেরিকায় গিয়ে প্রতিবাদ করতে বা ভোট দিতে অভিনেতার কোনও বাধা নেই। কিন্তু ভারতে বসবাস করে এ ধরনের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া মেনে নেওয়া হবে না। 
NDTV+1

‘ভারতই আমার বাড়ি’, আদালতে আবেদন অভিনেতার

অন্যদিকে, ইমরান খানের বক্তব্য, জন্মসূত্রে তিনি মার্কিন নাগরিক হলেও জীবনের বেশিরভাগ সময়ই ভারতে কাটিয়েছেন। আমেরিকায় মাত্র দু’বছর ছিলেন। তাঁর কাজ, পরিবার, সন্তান এবং ব্যক্তিগত জীবন সবই ভারতে। তাই এ দেশেই থাকতে চান তিনি।

আদালত অবশ্য এই আবেগের পাশাপাশি আইনি বিধিনিষেধের বিষয়টিও মনে করিয়ে দিয়েছে। OCI কার্ডধারীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভারতীয় নাগরিকদের মতো নয় বলেই জানিয়েছে FRRO-র তরফে কেন্দ্রের আইনজীবী। তাঁদের বক্তব্য, বিদেশি নাগরিক হিসেবে ইমরান খানের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

তবে আদালত এটাও জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাসকারী এবং পূর্বে কোনও অপরাধের রেকর্ড না থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন নোটিস জারির আগে তাঁকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন ছিল।

আপাতত আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইমরান খানের বিরুদ্ধে জারি হওয়া ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’-এর উপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। ফলে সাময়িক স্বস্তি পেলেও আইনি লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না অভিনেতার। নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *