হরমুজে ভয়ঙ্কর হামলা। এবার একেবারে নতুন উপায়ে। ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এবার ব্যবহার করা হল লিম্পেট মাইনস। আমেরিকা – ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকেই অশান্ত হরমুজ প্রণালী। একের পর এক জলযান আক্রান্ত হয়েছে এই জলপথে। আবারও তেমনই এক ঘটনা ঘটল এই হরমুজেই।  

গত ৩০ অক্টোবর পানামার পতাকা লাগিয়ে একটি ট্যাঙ্কার যাচ্ছিল হরমুজ দিয়ে। ঠিক সেই সময় এমটি লুইস ১-এ লিম্পেট মাইনের আঘাত হানে সেটিতে। জাহাজে ছিলেন ২৭ জন ভারতীয় নাবিক।   রয়টার্স সূত্রে খবর ,মার্কিন-ইরান সংঘর্ষ  শুরুর পর থেকে এই প্রথম কোনও জলযানে লিম্পেট মাইন লাগিয়ে আক্রমণ করা হল। এর আগে এমন চেষ্টা হলেও বিষ্ফোরকটি ফাটেনি।  ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এই খবর নিশ্চিত করে জানান,  বিস্ফোরণের জেরে ট্যাঙ্কারটির ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগে গেলেও ভারতীয় নাবিকরা রক্ষা পয়েছেন। 

লিম্পেট মাইন হল এক ধরনের বিস্ফোরক, যা সাধারণত জাহাজের গায়ে চুম্বক বা অন্য কোনও পদ্ধতিতে আটকে দেওয়া হয়। জাহাজের ইঞ্জিনের কাছে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এই ধরনের মাইন কাজে লাগানো হয়। সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে এই ধরনের হামলা বড়সড় নিরাপত্তার ঝুঁকির ইঙ্গিত। এই হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ । বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছয়। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত বা বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার প্রভাব সারা বিশ্বের কাছেই আতঙ্কের খবর। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং পণ্য পরিবহণের উপর পড়তে পারে।

এক সময় দুই দেশের সংঘাতে দীর্ঘদিন বন্ধই ছিল হরমুজে যাতায়াত। এখন বিভিন্ন দেশের ট্যাঙ্কারই চলাচল করছে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ধরে, কার্যত প্রাণ হাতে করেই পথ পেরোচ্ছেন নাবিকরা।  এমটি লুইস ১-এ হামলার ঘটনা হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে হামলার  পিছনে কারা ,এখনও তা স্পষ্ট নয়। তবে এটুকু জানা গিয়েছে, একটি ছোট নৌযান ওই বাণিজ্যিক জাহাজের গায়ে মাইনটি লাগিয়ে দিয়ে দ্রুত সরে যায়। আর তারপরই ওই লিম্পেট মাইনটি ফেটে জাহাজের ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে জাহাজের ভিতরে থাকা কেউ প্রাণ হারাননি। এর আগেও হরমুজে একাধিক জাহাজে হামলা হয়েছে। তবে লিম্পেট মাইন দিয়ে হামলার বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। 

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *