কলকাতা: নাগেরবাজারের একাধিক নামী রেস্তরাঁয় শনিবার পুলিশ, পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে অভিযান চালাল খাদ্য় সুরক্ষা দফতর। ফ্রিজারে রাখা মাংস থেকে বিভিন্ন খাদ্য়সামগ্রী, পরীক্ষা করে দেখেন তাঁরা। খতিয়ে দেখা হয় খাবারের গুণগত মান। এক গ্রাহক বলেন, “এই ইনস্পেকশনটা খুবই দরকার ছিল। এটা হচ্ছে, খুবই ভাল হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: E20 পেট্রোল নিয়ে টানটানির সময় ডিজেল কি ফিরছে মূল ধারায়? হুন্ডাই ভেন্যু ডিজেল কতটা নির্ভরতা দেয়?

নাগেরবাজারের আরসালান, ডায়মন্ড প্লাজার রং দে বাসন্তি ধাবা সহ একাধিক রেস্তরাঁয় শনিবার পুলিশ, পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে অভিযান চালাল খাদ্য় সুরক্ষা দফতর। সঙ্গে ছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরাও। ফ্রিজারে রাখা মাংস থেকে অন্য়ান্য় খাদ্য়সামগ্রী পরীক্ষা করে দেখলেন তাঁরা। খতিয়ে দেখলেন এক্সপায়ারি ডেটও। সংগ্রহ করলেন নমুনা।

ফুড সেফটি অফিসার রবি সিং বলেন, “আরসালান করেছি, এদিকে ২-৩টি ইউনিট দেখেছি। কারও কাছে নথি ঠিক নেই, রিপোর্টিং ইস্য়ু আছে। ওঁদের সময় দেওয়া হচ্ছে আপনারা রেকটিফাই করুন। ট্রেড লাইসেন্সও দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে করছেন, না স্বাস্থ্যসম্মত নয় এমনভাবে করছেন, কর্মীদের যথাযথ নথি আছে কিনা, সব দিক থেকে দেখছি। করছি।” 

আরও পড়ুন: “আমরা পুজোর আগেই আগাম…”, DA নিয়ে বড় কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী, কত মহার্ঘ্য ভাতা দেবে সরকার, বলে দিলেন সেটাও

নাগেরবাজারের ডায়মন্ড প্লাজার রেড কিচেন লাউঞ্জেও চলে খাদ্য় সুরক্ষা দফতরের অভিযান। খতিয়ে দেখা হয় খাবারের গুণগত মান। কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন খাদ্য় সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। ডায়মন্ড প্লাজার রেড কিচেন লাউঞ্জের এক কর্মী বলেন, “আমরা দেখালাম খাবারের মশলা ট্য়াগিং করা। কবে তৈরি। কতদিন ইউজ করা যায়, সব দেখালাম।”

“এতদিন কেন হচ্ছিল না” বলে উষ্মা প্রকাশ করেন এক গ্রাহক। তিনি আরও বলেন, “আমাদের জানাটা খুব দরকার, আমরা যেটা খাচ্ছি, প্রডাক্টটা কতটা স্বাস্থ্য়কর হচ্ছে আমাদের জন্য়। কারণ, আমরা তো ভিতরের ব্য়াপারটা জানতে পারি না।”

রাজ্যজুড়ে চলছে, খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান। প্রথম তিন দিনে প্রায় আড়াই হাজার সংস্থা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় তেরোশো নমুনা। নিয়ম না মানায় বন্ধ বা সিল করে দেওয়া হয়েছে ১৭টি সংস্থা। এই তথ্য জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সোশ্যাল মিডিয়াতে।

শুক্রবার সকাল থেকে পার্ক স্ট্রিটে করিমস-সহ বিভিন্ন রেস্তরাঁয় অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। ধরে ধরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় প্রচুর পুরনো ও বাসি খাবার। বুধবার ট্যাংরার বিগ বস রেস্তরাঁয় অভিযান চালায় কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের ফুড অ্যান্ড ফুড অ্যাডাল্ট্রেশন বিভাগ। সেখানে দেখা যায় রেস্তরাঁর হিমঘরে প্লাস্টিকের ব্যাগে বেঁধে রাখা হয়েছিল কেজি কেজি মাংস, চিংড়ি মাছও। উদ্ধার হয় পোড়া তেলও। এই তেল কোনও ভাবেই ব্যবহার করা যায় না।

এর আগে, সল্টলেক, সেক্টর ৫-এর একাধিক রেস্তরাঁয় যান, উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসক, বিধাননগরের SDO, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। অ্য়াবসোলিউট বারবেকিউ-এর স্টোররুমে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে পচা মাংস। মধ্যমগ্রামের স্টার মলে একাধিক রেস্তরাঁয় মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার ও পচা মাংসের হদিশ পান ফুড সেফটি অফিসাররা। লাইসেন্স বাতিল করা হয় রঙ দে বসন্তি ধাবার।

এই সমস্ত রেস্তরাঁতেই ভিড় করেন বহু মানুষ। চড়া দামে তাঁদের এই সব খাবার বিক্রি করা হয়। কিন্তু, তারপরও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য় নিয়ে চলছে এমন ছিনিমিনি খেলা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *