ঋত্বিক প্রধান, সত্যজিৎ বৈদ্য, রঞ্জিত সাউ, কলকাতা: প্রায় ৪ দিন পর পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের আহত প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের মৃত্যু হল কলকাতায়। ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রবিবার সকালে মৃত্য়ু হয় তাঁর। বিজন বন্ধু বাগ নামে তৃণমূলের ওই প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে বিজেপি খুন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অখিল গিরি। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। গোটা ঘটনায় তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।
মৃত্যু হল মেদিনীপুরের পটাশপুরের আহত প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের
বৃহস্পতিবার পটাশপুরের ঘটনা। আর রবিবার সকালে কলকাতায় মৃত্য়ু। শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্য়ু হল প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিজনবন্ধু বাগের। রবিবার দুপুরে ইএম বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে দেহ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এনআর এস হাসপাতালে। আকস্মিক এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্য়রা। যদিও অখিল গিরি ঘটনার পেছনে বিজেপির হাত আছে বলে অভিযোগ করেছেন। এদিন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি বলেন, ‘এই ভাবে নৃশংস হত্য়াকাণ্ড এই প্রথম। সম্পূর্ণ ভাবে বিজেপির লোকেরাই ছিল। যারা এসেছিল সম্পূর্ণ বিজেপির লোক।’
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্য়ায় ৬ থেকে ৭ জন দুষ্কৃতী বিজন বন্ধু বাগকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ব্য়াপক মারধর করে। আহত অবস্থায় প্রথমে প্রাক্তন ওই তৃণমূল নেতাকে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রেফার করা হয় কলকাতায়। নীল রতন সরকার হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর, দেহ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে গ্রামের বাড়িতে। পরিবারের সদস্য়রা পটাশপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ জানাবেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর, পটাশপুরের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে পিটিয়ে খুন করার চেষ্টা অভিযোগ উঠেছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কলকাতারই একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।
বিজেপির চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন অখিল গিরি
ঘটনার পেছনে বিজেপির চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন অখিল গিরি। প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, ‘কেউ কেউ দাবি করেছিল যে, ১০ লক্ষ টাকা পাই, তাই আমরা টাকার জন্য আমরা তাকে আটকে রেখেছিলাম। এই যে টাকা পয়সার কথা বলছে, এগুলো সব বানানো কথাবার্তা। পুরো রাজনৈতিক, এটা রাজনৈতিক ভাবে এটা করা হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে ভূমিকা আছে বিজেপির, কিন্তু বিজেপির কারা সেটা আমি বলতে পারব না, কার নেতৃত্বে হয়েছে বলতে পারব না, তবে বিজেপির লোকেরা আছে।’ অখিলগিরির দাবি, যে দু’জনকে পুলিশ আটক করেছিল তাদেরকে ইতিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, পুলিশ দুইজনকে আটক করে এবং তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।