দীপক অধিকারী, নয়াদিল্লি: জেলমুক্তির পরই পুলিশের নোটিস, হাজিরা দিলেন ৩ CJP নেতা। দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় হাজিরা দিলেন আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্কা শিন্ড। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের নোটিসে হাজিরা দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা। বুধবার জামিনে মুক্তির পরই সৌরভ ও আশুতোষকে নোটিস ধরায় ক্রাইম ব্রাঞ্চ। হাজিরা দিতে বলা হয় CJP নেতা অজিঙ্কা শিন্ডেকেও।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্য়াগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি ও জয়পুর। পথে নামল বাম সংগঠন, আইসা সহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজ। তাদের রুখতে নামানো হয় প্রচুর পুলিশ। অন্য়দিকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের জামিনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের জামিনদারদের বিশ্বাসযোগ্যতা। সেই ইস্য়ুতে মন্দির মার্গ পুলিশ স্টেশনে তলব করা হয় আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্কা শিন্ডেকে। দিল্লিতে প্রতিবাদ প্রতিবাদের আঁচ জয়পুরে দাবি একটাই ,মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা।এই দাবিতে ফের সুর চড়াল বামেরা। পথে নামল বাম সংগঠন, AISA। বিক্ষোভ-মিছিল একাধিক নাগরিক সংগঠনের। প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ল রাজস্থানের জয়পুরেও। আন্দোলনকারী সুমিত্রা চোপড়া বলেন, আগামী দিনেও সংঘর্ষ জারি থাকবে। যতদিন না আমাদের প্রধান দাবি জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দিচ্ছেন, SIR প্রক্রিয়া বন্ধ হচ্ছে, যতদিন এই দাবি পূরণ না হচ্ছে ততদিন আন্দোলন চলবে। আন্দোলনের রূপ বদলাতে পারে।
SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফার দাবিতে, বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিল বাম-সহ একাধিক সংগঠন। গন্তব্য ছিল নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদন। কিন্তু সেন্ট্রাল দিল্লি থেকে মিছিল শুরু হতেই, তা আটকে দেয় পুলিশ। সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত বলেন, ‘আমরা বলছি, জ্ঞানেশ কুমার গদি ছাড়ুন। মোদিজি ভাবছেন, আমরা বলছি মোদিজি গদি ছাড়ুন। ওরা (সরকার) সরকার বদলের কথা বলছে, আমরা বলিনি। আমরা বলেছি, জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দিন। আমরা যন্তর মন্তর যেতাম। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতাম। মোদিজি ধন্য়বাদ, আপনার জন্য় সব রাস্তা আজ যন্তর মন্তর।’
অন্য়দিকে, ককরোচ জনতা পার্টির নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা তিহাড় থেকে ছাড়া পেয়েছেন বুধবার। বৃহস্পতিবারই তাঁদের তলব করে দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখা। ডাকা হয় সিজেপির আর এক নেতা অজিঙ্ক শিন্দেকেও। শুক্রবার, দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় হাজির হন তারা। ককরোচ জনতা পার্টি সহ আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আমাদের যারা জামিন করিয়েছেন, তাদের একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ছিল। সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে, এবং নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে যেকোনও একটি নতুন তারিখ আমাদের দেওয়া হয়েছে। ‘ গত ১৩ অক্টোবর লোহার গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকেছিলেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্দে। তাঁদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির আরও কিছু সমর্থক সেখানে প্রবেশ করেন। তার আগের দিনই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকার। ওই ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।