কলকাতা: দিল্লি হস্টেল-দুর্ঘটনার পর এবার PG-তে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে দিল্লি সরকার। শুরু হয়েছে ‘পেয়িং গেস্ট অ্যাকোমডেশন রেগুলেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বিল’ আনার ভাবনাচিন্তা। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার জেরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত হোস্টেলের সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে NHRC. 

 আরও পড়ুন, ‘বাগেশ্বর বাবা’র ফতোয়া ঘিরে সমালোচনার ঝড়, “ক্ষমা চাওয়া উচিত, বাংলা ও বাঙালির কাছে”, প্রতিক্রিয়া কুণালের

উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শেষ হয়েছে সোমবার। তবে মঙ্গলবার সকালেও চলেছে ভেঙে পড়া মেসবাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। রবিবারের বিপর্যয়ের পর দিল্লির বিভিন্ন হস্টেল বা মেসের অব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন বহু পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, মুনাফার কথা মাথায় রেখে অপরিকল্পিত ভাবে নতুন ঘর তৈরি করেন মালিকরা। সেখানে ন্যূনতম পরিষেবা না মিললেও গুনতে হয় হাজার হাজার টাকা। এই প্রেক্ষিতে এবার রাজধানীতে PG-তে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে দিল্লি সরকার। শুরু হয়েছে ‘পেয়িং গেস্ট অ্যাকোমোডেশন রেগুলেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বিল’ আনার ভাবনাচিন্তা। 

বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রতিটি পিজির সরকারি লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। নিজের ইচ্ছেমতো পিজি চালু করা যাবে না। জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা নিজ রাজ্যের ভিত্তিতে ভাড়ার তারতম্য করা যাবে না।এলাকা বা অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার সীমা নির্ধারণ করা হবে। সিকিওরিটি ডিপোজিট, সর্বোচ্চ ৩ মাসের ভাড়ার সমান হতে পারে।  শিক্ষার্থী পিজি ছেড়ে যাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তা ফেরত দিতে হবে। বিদ্যুৎ বা অন্যান্য পরিষেবার জন্য খেয়ালখুশিমতো কোনও চার্জ বা ফি ধার্য করা যাবে না।শিক্ষার্থীরা সরকারের ‘GovPG’ পোর্টালের মাধ্যমে পিজি (PG)-সংক্রান্ত তথ্য দেখতে এবং অভিযোগ জানাতে পারবেন।
 
রবিবার দুপুরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতন এলাকায়, ছ’তলা হস্টেল বাড়ির একটা বড় অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মৃত্যু হয় সাতজন পড়ুয়ার, আহত হন অনেকে। এলাকায় অন্যান্য বহু বাড়ির মতো এই পুরনো বাড়িটিও পেইং গেস্ট বা PG আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হত। এই ঘটনার পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত হোস্টেল সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
  
দিল্লি সরকারের মুখ্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে তারা। নির্দেশ বলা হয়েছে, তারা যেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে হোস্টেলের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ, সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকর পদক্ষেপ করেন। এবং ৪ সপ্তাহের মধ্যে তা নিয়ে রিপোর্ট জমা দেন। রবিবার রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে ভেঙে পড়া বহুতল মেসবাড়ির মালিক হরিরাম বনসলকে সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্ত্রী উর্মিলা এবং পুত্র মহেশকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। রুজু হয়েছে FIR.অন্যদিকে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচ জন পুর আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।  



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *