কলকাতা: ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)-এর তথ্য় অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে অ্যাক্টিভ হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী কয়েক ঘণ্টার এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর শক্তি বড়লেই এটি পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। সকাল থেকেই মুখ ভারি আকাশের। ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে, আজ থেকে ৪ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, দঃ ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। পুরুলিয়া, বীরভূম, হাওড়ার একাংশেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এই নিম্নচাপের জেরে আজ থেকে কলকাতায়ও বাড়বে বৃষ্টি।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ উপকূলীয় রাজ্যগুলির জন্য মারাত্মক ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) অনুসারে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ২১০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২২০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকায়, ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মধ্যবর্তী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল গভীর নিম্নচাপ রূপে অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়লসীমায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের নামের আঞ্চলিক তালিকা অনুসারে, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট হতে যাওয়া পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, যার বাংলা অর্থ মহাসাগর।  

কোন কোন জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে?

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন যে, পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কারণে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোরাপুট, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই তিনটি জেলা রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কালাহান্ডি, নবরঙ্গপুর, কোরাপুট এবং মালকানগিরি ছাড়াও নিকটবর্তী জেলা যেমন বালেশ্বর এবং বৌধও রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে ওড়িশা অন্যতম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এর বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি জেলার কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মালকানগিরিতে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোও ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *