কলকাতা: ‘শারদোৎসব’ লিখলে কোনও পুজো প্যান্ডেলের পাশে সিপিএম-এর বই এর স্টল বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘দুর্গাপুজো’ লিখলে তবেই অনুমতি পাবেন স্টল দেওয়ার। এই মন্তব্যের পর থেকে অনেক জলঘোলা হয়েছে। পাল্টা এনিয়ে সরব হয়েছে সিপিএম। এবার বনগাঁয় দুর্গাপুজোয় বুক স্টল করা নিয়ে বাম ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বচসা শুরু হয়। আর এই বচসাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তুমুল অশান্তি।
দুর্গাপুজোয় CPM-এর বুক স্টল বসানো নিয়ে তুমুল অশান্তি বাম ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএম কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। বনগাঁয় দুর্গাপুজোয় দীর্ঘদিন ধরে শারদ উৎসব উপলক্ষে বুক স্টল করে আসছি, দাবি বামেদের। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের থেকে অনুমতি নিয়ে এবারেও স্টল তৈরির কাজ হচ্ছিল, কিন্তু হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা গিয়ে মঞ্চ ভাঙচুর করে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের মারধরও কড়া হয় বলে অভিযোগ। ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, বাম কর্মীরাই মারধর করেছে।
উল্লেখ্য, ২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে পালাবদল ঘটে। তারপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছে CPM-এর লোকেরা। শুধু পুজোয় বই-এর স্টল বসানো নিয়ে নয়, বামেরা তাদের মিটিং, মিছিল ও বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচীতেও আক্রান্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনা গুলো উল্লেখ করে বলা যায়, বিরাটি থেকে শুরু করে কলকাতার আনন্দপুর হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর, এই কয়েকদিনে বিভিন্ন জায়গায় বামেদের ওপর নেমে আসে আক্রমণ। সব জায়গাতেই বিজেপি আশ্রিত দুষকৃতীদের দিকে হামলার অভিযোগ তুললেন সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরা। গত শুক্রবার ভর সন্ধেয়, বিরাটিতে SFI-এর সভায় চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। ছিঁড়ে ফেলা হয় মঞ্চে লাগানো ফ্লেক্স। আছড়ে আছড়ে ভাঙা হয় চেয়ার। অন্যদিকে আবার আনন্দপুরের চৌবাগায় সিপিএমের পার্টি অফিসের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
এই সামগ্রিক ঘটনা নিয়ে CPM নেত্রী সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর জানিয়েছিলেন, ‘তৃণমূলকে যেমন কিনে নেওয়া যায়, সিপিএমের লোকজনকে কেনা যাচ্ছে না। বিরোধী মত থাকতে দেওয়া যাবে না, তাই বামপন্থীরা একমাত্র টার্গেট।’ যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা দিয়ে বলেন, ‘এখন সিপিএম ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। কোথাও কোনও সংঘর্ষ নেই। যা সরকার চলছে, ঠিক চলছে। সামান্য যদি কোনও জায়গায় কোনও বিচ্যুতি থাকে, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে জিরো টলারেন্স নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’