হুগলি: হুগলির পুরশুড়ায় ‘কৃষক সম্মান নিধি’ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে গিয়ে আলুচাষীদের জন্য বিরাট বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। এদিন তিনি বলেন,  ‘২০২৭-এর আলু সংগ্রহ প্রকল্প ঘোষিত হল। এই প্রকল্পে আলুচাষের সমস্যার নিষ্পত্তি করা হবে। প্রতি কুইন্টাল ১১২০ টাকার ফ্রি-বন্ড মূল্য দেওয়া হবে। তার থেকে বাজার দর নেমে গেলে তার ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার।’

আরও পড়ুন, ১২ নভেম্বর ভোটার তালিকা প্রকাশ হচ্ছে না, কবে তালিকা প্রকাশ? কী জানাল কমিশন

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আলুচাষীদের উপরে বিগত সরকার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যাচার, কীভাবে অত্যাচার করেছে ! ভারতবর্ষ কেন, পৃথিবীর কোনও দেশে নেই, একটা রাজ্যের আলুকে, অন্যরাজ্যে যেতে গেলে, সীমান্ত আটকে দেয়। পুলিশকে মৌখিক নির্দেশ দিয়ে, আলুচাষীদেরকে, বিপন্ন করা হয়েছে। একদিকে সারের কালোবাজারি, অন্যদিকে উচিতমূল্য না পাওয়া। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ফসলবীমা যোজনাতে, আলুকে যুক্ত না রাখা আর অন্য দিকে, আলু উৎপাদ অতিরিক্ত হলে, ঝাড়খণ্ড, বিহার, আসাম,ইউপি, যখন আপনি পাঠাতে যাবেন, তখন বারবার প্রত্যেকবছর, সীমানা আটকে দিত।আমরা অর্ডার দিয়ে দিয়েছি, কোনও আলুচাষীর তার গাড়িকে, এই সরকারকে আপনারা যতদিন রাখবেন, কোনও বর্ডারে কেউ আটকাবে না।আলুচাষীদের কাছে আমরা কথা দিতে পারি,  ২৫-২৬ বর্ষে, মোট আলু উৎপাদন হয়েছে, ১৪০ লক্ষ মেট্রিক টন,   ২৫-২৬ বর্ষে, কোল্ড স্টোরেজগুলিতে, ৭৫ লক্ষ মেট্রিকটনের, বেশি আলু মজুত করা হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজে আজ পর্যন্ত,আলু বেড়িয়েছে ৪৮ লক্ষ মেট্রিকটন। যা গত বছরের সম পরিমাণ, বা ৪ শতাংশ কম। বিদ্যমান ২৭ লক্ষ মেট্রিকটন আলু, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে, নিষ্পত্তি করতে হবে। যা আইন অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর অবধি বাড়ানো যেতে পারে। আমরা আশা করব, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে,এই আলু পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে যাবে। 

মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন,’ আমরা এই ক্ষেত্রে আজকে আলুচাষীদের জন্য, বিশেষ ঘোষণা করছি, আপনাদেরকে প্রতি কুইন্টালে গাড়িতে অথবা রেলে,যেভাবেই নিয়ে যান, প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা করে,  ভর্তুকি দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যাতে আপনারা এই আলুকে বের করে নিতে পারেন। এর সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি,আশ্বাসের সামাঞ্জস্য রেখে, কৃষিপণ্য বিপণন আইন,এর অধীন প্রতিটি কোল্ড স্টোরেজকে, মার্কেট ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করা হবে।এই কোল্ড স্টোরেজের মধ্যে উন্নত সমণ্বয়,সরকারের কাছ থেকে সহায়তা সুবিধা, কোল্ড স্টোরেজের বিক্রয়ের স্বাধীনতা, নিশ্চিত করবে, যেটা আগে দেওয়া হয়নি। আমরা ২০০ টি মার্কেট ইয়ারে, ৫ মেট্রিকটন এবং ১০ মেট্রিকটন ক্ষমতার সোলারমিনি কোল্ডরুম আমরা স্থাপন করব। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্মার্ট মান্ডি প্রকল্পে ৫০ টি মডেল মান্ডির উন্নয়ন করা হবে। যা সারাদেশে কৃষিপণ্যের বাণিজ্য- সংরক্ষণ, প্যাকিজিং, বিপণনের সুবিধা, নিশ্চিত করবে।..আপনাদের যে বীমার অংশটা দিতে হয়,  সেটা আপনাদের দিতে হবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আপনাদের হয়ে, পেমেন্ট করবে।’ 

তিনি বলেন,’ আলু সংক্রান্ত বিষয়ে আরও একটি ঘোষণা আমি করব, চলতি বছরে ৪৯টি হিমঘরে, কুইন্টালে ৯৫০ টাকা, লাভজনক মূল্য ৪.৭৫ লক্ষ কুইন্টাল আলু কেনা হয়েছে। উল্লেখিত হিমঘরে সংরক্ষণ হয়েছে। আমি আপনাদের কাছে কথা দিতে পারি,  প্রতি কুইন্টাল ১১২০ টাকার, ফি বন্ড মূল্য,এর নীচে যদি নেমে যায়, আমরা আপনাদেরকে ভর্তুকি দেব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *