বীরভূম, রামপুরহাট : তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা হবে। বীরভূমে দাঁড়িয়ে ফের TRDA দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর, মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ফিরে এল সেই TRDA-র প্রসঙ্গ। যা নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি ‘কালীঘাট-তৃণমূল’। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘তারাপীঠ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নিয়েও প্রচুর তদন্ত হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী ব্য়বস্থা হবে।’
গত ১৬ অগাস্ট… প্রাক্তন মন্ত্রী ও বীরভূমের রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। পরদিন অর্থাৎ, ১৭ অগাস্ট, তারাপীঠে হোটেলে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড ঘটে। মৃত্য়ু হয় ৯ জনের। দুই ঘটনাতেই উঠে আসে TRDA-এর প্রসঙ্গ। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু, তারাপীঠে হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, TRDA অর্থাৎ তারাপীঠ-রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি – একসঙ্গে জুড়ে যায় এই নামগুলি। তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি, এই সংস্থার দায়িত্ব তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন এলাকা ও রামপুরহাটের সামগ্রিক পরিকাঠামো ও উন্নয়নের দেখভাল করা।
এই TRDA-র বিরুদ্ধেই বারবার উঠেছে মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ। শনিবার এই নিয়ে সরব হলেন মুখ্য়মন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেই অভিযান আমরা থামাব, এরকম ভাবার কোনও কারণ নেই।’ তৃণমূল জমানায় তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ সংক্ষেপে TRDA-র চেয়ারম্যান ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হওয়া নোটে উল্লেখ ছিল TRDA প্রসঙ্গের।
‘ও সুস্থভাবে বাড়ি ফিরুক, বাড়িতে দুটো বাচ্চা রয়েছে’, শর্মিষ্ঠার ফেরার আসায় দিন গুনছেন শুভ্রাংশু
সেখানে লেখা ছিল, TRDA-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনওদিন কেউ-ই আলোচনা করেনি, আমারও এইসব বিষয়ে কোনও আগ্রহই ছিল না। ১৭ অগাস্ট তারাপীঠে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাতেও উঠে আসে এই TRDA দুর্নীতির প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘তারাপীঠ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নিয়েও প্রচুর তদন্ত হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেই অভিযান আমরা থামাব, সেটাও ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। এখানে যে ঘটনা তারাপীঠে এর আগে হয়েছে, সেরকম ঘটনা যাতে না হয়, এখানে শুনে অবাক লাগল, হোটেলে তালাচাবি লাগানো থাকে। যাতে আবাসিকরা সকালবেলায় বেরিয়ে চলে না যায়। এ তো জতুগৃহ বানিয়ে রাখা হয়েছে। সব খারাপ অভ্য়াস। বদলাতে বলা হয়েছে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ওঁরা আমাকে বলেছেন যে কোনও প্রশাসন, বিজেপির কেউ উত্যক্ত করেননি। এখানে বিজেপির লোকেরা সভ্যভব্য এবং যথেষ্ট তাঁরা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে রেসপেক্ট দিতেন। ছেলে, ওঁর দাদা, ওঁর স্ত্রী বলেছেন যে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই। পুলিশ-অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কেউ কোথাও ওঁকে উত্যক্ত করেনি।’ বিজেপি এরাজ্য়ে ক্ষমতায় আসার পর, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা প্রশাসন। ২২ দিন ধরে সেই তদন্ত চলার পর, জেলাশাসকের কাছে জমা পড়েছে রিপোর্ট।