সোমনাথ দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর : পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় একটি পরিবারকে মারধর এবং মন্দিরে নিয়ে গিয়ে জোর করে অঞ্জলি দেওয়ানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে। অন্য ধর্মে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় একটি পরিবারকে মারধর এবং মন্দিরে নিয়ে গিয়ে জোর করে অঞ্জলি দেওয়ানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে।
পরিবারের অভিযোগ, অষ্টমীর দিন কয়েকজন তাঁদের বাড়ির তালা ভেঙে ঢুকে নথিপত্র ও টাকা-পয়সা লুঠ করে। এরপর, স্থানীয় মন্দিরে নিয়ে তাঁদের জোর করে অঞ্জলি দেওয়ানো হয় ও প্রসাদ খাওয়ানো হয়। অভিযোগকারী জানান , ‘আমরা খ্রিষ্ট বিশ্বাসী…অঞ্জলি দিয়েছে জোর করে, পুষ্পাঞ্জলি আমার বৌমাকে দিয়েছে, অষ্টমীর দিনে ওটা। আমরা ওটা চাইনি, ওটা জোর করে করেছে, আমরা হচ্ছে খ্রিষ্ট বিশ্বাসী। কোনও বজরং দলের লোক। জোর করে অঞ্জলি দেওয়া করিয়েছে, মারধর করেছে। ‘
এনিয়ে চন্দ্রকোণা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। FIR-এর নথিতে, মারধরের পাশাপাশি খ্রিষ্টান ধর্ম না ছাড়লে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। এরপরই, এই পরিবারের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ‘ আমি এখনও আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমরা যিশুকে বিশ্বাস করি, প্রার্থনা করি এটাই আমাদের অপরাধ।আমাদেরকে জোর করে নিয়ে গেছিল অঞ্জলি দিতে। ‘
এনিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। পাল্টা চন্দ্রকোনার বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছেন, বিষয়টা জানি না, তবে, এরকম কোনও ঘচনা হলে আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ যথাযত ব্যবস্থা নেবে। অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।
পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের প্রশ্ন, ‘পুলিশ এখন আছে, কিন্তু যখন থাকবে না, তখন কী হবে?’
কিছুদিন আগেই মমতা অনুগামী তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ অভিযোগ করেন, কলকাতা ও গ্রামে পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠানের উপরে বারবার হামলা হচ্ছে। অভিযোগের তির বজরং দলের বিরুদ্ধে । কিছুদিন আগে সাগরিকা ঘোষ ও মমতা তৃণমূলের কয়েকজন সদস্য কলকাতায় আর্চবিশপের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানান। তাঁরা উত্তর ২৪ পরগনার বামাপুকুরে ডিভাইন মার্সি গির্জাতেও যান। তাঁরা এই সব জায়গা থেকে নানাবিধ অভিযোগ পেয়েছেন বলে দাবি করেন সাগরিকা।