কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্য নির্ঘন্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই জায়গা থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীর। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে নির্বাচনে লড়েছিলেন ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও। দুই কেন্দ্র থেকেই বড় ব্যবধানে জেতেন তিনি। ভোটে জেতার পর ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। অন্যদিকে আবার একই ছবি রেজিনগরেও। হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ছাড়াও নওদা আসন থেকেও লড়েছিলেন। হুমায়ুনও জেতেন দুই আসন থেকেই। ভোটের পর রেজিনগর ছেড়ে দেন হুমায়ুন। আর এই দুই কেন্দ্রেই আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। কিন্তু রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে একটি অডিও ক্লিপ ঘিরে চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে। 

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে অডিও ক্লিপ ঘিরে চাঞ্চল্য। পুলিশের দেওয়া দু’জনের কথপোকথনের ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, একজন নির্মীয়মাণ বাবরি মসজিদে বিজেপির পতাকা লাগানোর কথা বলছেন। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অডিও ক্লিপে তাঁরও কণ্ঠস্বর রয়েছে, তবে তিনি কোনও চক্রান্তে জড়িত নন। দাবি করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

কী আছে অডিও ক্লিপে ?

কণ্ঠ ১ : হ্যালো…

কণ্ঠ ২ : বলো…

কণ্ঠ ১ : একটা প্ল্যান খাটালাম বুঝলেন তো। বলছি বাবরি মসজিদে কোনও CCTV আছে? 

কণ্ঠ ২ : হ্যাঁ  

কণ্ঠ ১ : রাস্তাগুলো দেখা যাবে? CCTV-টা বন্ধ করে দিয়ে না,…করতে হবে। ৮-১০টা ফ্ল্যাগ বিজেপির, এটা মুসলিম সমাজে দেখিয়ে দিতে হবে, বিজেপি ফ্ল্যাগগুলো সব লাগিয়ে দিয়ে গেছে রাত্রিবেলায়। এটা একটা প্ল্যান। তাহলে মুসলিম সমাজ না ক্ষেপে যাবে। একটু মাথায় রাখবেন।

কণ্ঠ ১ : আহম্মেদকে নিয়ে…

নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও। এই রেজিনগরেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে বাবরি মসজিদ। আর ঠিক উপনির্বাচনের আগেই কি অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে? সোমবার দু’জনের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামনে নিয়ে এল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। পুলিশের দেওয়া অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, নির্মীয়মাণ বাবরি মসজিদে কেউ বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন।  এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ-এর পুলিশ সুপার শচীন মাক্কার বলেন, ”আমাদের কাছে একটা অডিও আছে। যে অডিও থেকে আমরা জানতে পারি, ২ জনের কণ্ঠস্বর। একজনের নাম সরফরাজ নওয়াজ, ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ আগেও একটা ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত ছিল। অন্য কণ্ঠস্বরটি কার, সেটাই বুঝতে পেরেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ নিয়ে ভয়েস স্যাম্পেলিং করা হবে। আপনারাও বুঝতে পেরেছেন দ্বিতীয় গলাটি কার।”

তবে এই ঘটনাটির কথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর স্বীকার করে নিয়েছেন। অডিওতে যে দু’জনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, তার মধ্যে একটি তাঁর। তবে তিনি কোনও অশান্তির পরিকল্পনা করেননি বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ”এ আমাকে ফোন করেছিল কাল (রবিবার)। ফোন করে আমাকে বলছে, আমি একটা প্ল্যান করেছি। আমি বললাম, তোমাকে এইসব জ্ঞান আমাকে দিতে হবে না। আমি এই ধরনের কোনও প্ল্যান করে কাজ করি না। আমি কোনও চক্রান্তকারীদের সঙ্গে কোনওদিন ছিলাম না। আজও নেই।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *