কমল কৃষ্ণ দে, বর্ধমান: আর জি করের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। ঘটনার প্রতিবাদে গান বেঁধেছিলেন গায়ক অরিজিত সিং। আন্দোলন আছড়ে পড়েছিল কলকাতার রাস্তায়। নাগরিক সমাজ থেকে চিকিৎসকরা, সকলেই ঘটনায় গর্জে উঠেছিলেন। কলকাতা পুলিশের তৎকালীন নগরপালকে প্রতীকী শিরদাঁড়া উপহারও দিয়েছিলেন চিকিৎসক পড়ুয়ারা। আর এবার সেই প্রতিবাদের স্লোগান মোছার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।
আরও পড়ুন: সরকারি প্রকল্পের ভিডিও বানালেই মিলবে ১ লক্ষ টাকা! বড় ঘোষণা বিহারে
এদিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আর সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন দেওয়াল জুড়ে আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। আর তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের দেওয়ালে আর জি করের ঘটনা নিয়ে একাধিক স্লোগান লেখা রয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের দেওয়ালে ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ও ‘শিরদাঁড়া বিক্রি নেই’ -এর মতো স্লোগান লেখা। আর এবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই স্লোগান মোছার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামিকাল অর্থাৎ ২২ অগস্টের মধ্যেই এই সব পরিষ্কার করতে হবে। সাদা রং করার কথাও বলেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন কে বা কারা এই কাজ করেছে। এ ছাড়াও ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “নিজেদের কলেজ নিজেরাই নষ্ট করছে।”
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “কালকের মধ্যেই এই পুরো পরিষ্কার করবেন। মামারবাড়ি নাকি? কে করেছে এইগুলো? কে করেছে এইগুলো? কালকের মধ্যেই প্রত্যেকটা সাদা রং করবেন। নিজেদের কলেজ নিজেরাই নষ্ট করছে। স্টুডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ কেউ যদি থাকে, তো আনবেন।”
গতকাল অর্থাৎ ২০ অগস্ট রাতে প্রথম বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তারপর আজ ফের সারপ্রাইজ ভিজিট করেন তিনি। সকাল ১০ টা বেজে ৪৫ মিনিটের আশেপাশে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগে আসেন তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও ক্ষুদিরাম টুডু।
পরবর্তীতে স্টুডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভদের সঙ্গে বৈঠকও করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তারপর তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি স্টুডেন্টদের কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই সব মুছে ফেলা হয়। একই সঙ্গে তিনি এটাও জানান, এই ধরনের দাবি বা প্রতিবাদের জন্য আলাদা একটা দেওয়াল বা আলাদা একটা জায়গাও করে দেবেন ছাত্রছাত্রীদের জন্য। এবার দেখার আসলে কী হয় বর্ধমান মেডিক্যালে।