নয়াদিল্লি: দেশে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বার বার। অন্তরাল থেকে এবার বেরিয়ে আসছেন শেখ হাসিনা। সাংবাদিক বৈঠক করতে চলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। গত দু’বছর ধরে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন হাসিনা। তবে প্রকাশ্যে আসেননি একটিবারও। বরং টানা অন্তরালেই ছিলেন তিনি। কবে এবার অন্তরাল কাটিয়ে এবার প্রকাশ্যে আসতে চলেছেন তিনি। যে সময় হাসিনা প্রকাশ্যে আসতে চলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে বাংলাদেশে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সমর্থনে মুখ খুলেছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আর তার পরই হাসিনার প্রকাশ্য উপস্থিতির খবর সামনে এল। (Sheikh Hasina)

ভারতে সাংবাদিক বৈঠক করতে চলেছেন হাসিনা। দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ার তরফে ওই সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন হাসিনা। অর্থাৎ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাংবাদিক বৈঠক করবেন। সেখানে বাংলাদেশে ফেরা থেকে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেন তিনি। আগামী ৫ অগাস্ট ওই সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেবেন হাসিনা। যে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (Bangladesh News)

৫ অগাস্ট দিল্লির স্যর মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে সন্ধে ৬টা থেকে ৭.৩০টা পর্যন্ত চলবে ওই সাংবাদিক বৈঠক। সরাসরি সম্প্রচারিত হবে সাংবাদিক বৈঠকের কথোপকথন। ওই সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দেবেন হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজের জয়, বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নোফেল, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ আলি সিদ্দিকি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা প্রাক্তন সাংসদ সাকিব আল হাসান, প্রাক্তন কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, সন্ত্রাসদমন বিশেষজ্ঞ আবু ওবাইদা অরিন, আমেরিকায় বাংলাদেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত নজরদারি সংস্থার ডিরেক্টর শাহ মহম্মদ বখতিয়ার।

আরও পড়ুন: মাঝ সমুদ্রে জাহাজে আগুন, জলে ঝাঁপ দিলেন অনেকে, এখনও নিখোঁজ ৪১, নিহত ৫

২০২৪ সালের বাংলাদেশে যে সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়, তা হিংসাত্মক আকার ধারণ করলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন হাসিনা। প্রাণে বাঁচিয়ে দিল্লিতে এসে আশ্রয় নেন। সেই থেকে ভারতে গোপন ঠিকানাতেই রয়েছেন তিনি। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূস। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসীন হন BNP-র তারেক রহমান। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। যদিও আইনি প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। 

আরও পড়ুন: মা হননি কেন? কারণ জানালেন নায়িকা, টাকা থাকতে IVF করালেন না কেন, তাও খোলসা করলেন

সেই আবহেই বাংলাদেশে ফিরতে চেয়ে সরব হয়েছেন হাসিনা। চলতি বছরের শেষ দিকেই বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে হাসিনা আদৌ বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। বাংলাদেশ সরকার আগেই তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করেছিল। কোনও ভাবে যদিও বা দেশে ফেরেন হাসিনা, বাংলাদেশে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মন্ত্রী। তবে হাসিনা দেশে ফিরতেই চান। বাংলাদেশের তরফে ইতিমধ্যেই একাধিক বার হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সেই নিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *