কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যে ফের চর্চা তুঙ্গে। অভিযোগ জানানোর পোর্টাল চালু হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বড় অঙ্কে পৌঁছে গিয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনায় কারও আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরেও টাকা না পাওয়া, আবার অযোগ্য কেউ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন—এই ধরনের অভিযোগ জানানোর জন্যই নতুন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এর আগে জানানো হয়েছিল, টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
পোর্টালে কী কী অভিযোগ করা যাচ্ছে?
অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি নিজেকে যোগ্য মনে করেও যদি টাকা না পান, তাহলে পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে। একইসঙ্গে অযোগ্য ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে হলেও তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা যাবে।
অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। সংশ্লিষ্ট জেলার বিডিও-রা অভিযোগের শুনানি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবেন বলে আগে জানানো হয়েছিল।
কেন এত অভিযোগ?
অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পের টাকা পাওয়া, আবেদন যাচাই এবং যোগ্য-অযোগ্য তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক আবেদনকারী টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। আবার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন এমন ব্যক্তির নাম তালিকায় রয়েছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে অভিযোগ জানানোর জন্য পৃথক পোর্টাল চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পোর্টাল চালুর পর এত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ার দাবি সেই সমস্যার পরিসর নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যোগ্য নন এমন কিছু মহিলাও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে। এখনও পর্যন্ত পোর্টালে মোট অভিযোগের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লক্ষ। অভিযোগগুলি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
ফলে অন্নপূর্ণা যোজনায় একদিকে বঞ্চিতদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং অন্যদিকে অযোগ্য উপভোক্তাদের বাদ দেওয়ার জন্য পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকেই এখন গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কী জানা জরুরি?
অন্নপূর্ণা যোজনা পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। টাকা সরাসরি আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে আবেদন জমা দেওয়ার পরেই যে প্রত্যেকে টাকা পাবেন, তা নয়। আবেদন যাচাই, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং ব্যাঙ্কের তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ফলে আপনার আবেদন অনুমোদিত হলেও টাকা না এলে, অথবা প্রকল্পের তালিকায় কোনও অনিয়ম রয়েছে বলে মনে হলে, অভিযোগ জানানোর পোর্টালটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি সত্যি হলে, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়ার ঘটনা অন্নপূর্ণা যোজনার বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। এখন এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগের কতগুলি সত্যি, কতগুলি নিষ্পত্তি হয় এবং কত জন নতুন করে প্রকল্পের সুবিধা পান—সেদিকেই নজর থাকবে।