কলকাতা : ২৮ বছর আগে কংগ্রেসের ঘর ভেঙে তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। নিজের তৈরি সেই দলের নাম ও প্রতীক হারিয়ে, ফের কংগ্রেসেরই হাত ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। নন্দীগ্রামে তাঁর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্য়াহার করে নেওয়ায় সেখানে কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এদিকে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই আবহে কংগ্রেসকে মমতার সমর্থন ঘোষণার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।
তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন বলছেন সেটা দেখতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বলছেন যখন তাঁর দলের প্রার্থী ভয়ে-প্রলোভনে আর দলের হয়ে লড়তে রাজি হলেন না। অর্থাৎ, তিনি যে খেলাটা খেলবেন…ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবে প্রতীক নিয়ে…সেই প্রতীকে তিনি তাঁর দলের কোনও খেলোয়াড়ই পেলেন না। কাকে নিয়ে খেলবেন তিনি ? এই জায়গাটা বুঝতে হবে। এক। আর একদিকে আছে, খাম প্রতীক। খামের তলায় তো যা দেওয়ার দিয়ে এসেছে বিজেপি। ফলে, খাম খামেই থাকবে। খামের মুখ আর খুলবে না। ফলে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে হয়েছে যে তৃতীয় কোনও শক্তি থাকলে তার নাম হচ্ছে কংগ্রেস। তাই তাঁর মনে হয়েছে কংগ্রেসকে সমর্থন করে দেওয়া ভাল। কারণ তাঁর খেলোয়াড় নেই। বিনা খেলোয়াড়ে তো মাঠে নেমে খেলা যায় না। ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের মতো করে লড়াই করার জন্য রেডি হচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, লড়াই যেটা হবে…নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেটা হবে সেটা হবে বিজেপি আর কংগ্রেসের।” মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হাতে তৈরি দল। দলের প্রতীক ঘাসফুল। ২৮ বছর আগে ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের ঘর ভেঙে তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। অবশ্য় কংগ্রেস ছাড়লেও, নতুন দলের সঙ্গে কংগ্রেস নামটা জুড়ে দিয়েছিলেন। আপাতত হলেও, নিজের তৈরি সেই দলের নাম ও প্রতীক হারিয়ে, ফের একবার পুরনো দল, কংগ্রেসের হাত ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, এমনই মন্তব্য করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কারণ, নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এরপরই নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময়, পুরনো একটি খুনের মামলায় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর নামে ওয়ারেন্ট ছিল। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে।