কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জির প্রেক্ষিতে ২০ জন NCPI সাংসদের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে এদিনই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিস পাঠিয়ে ৭ দিনের মধ্যে জবাব চাইল লোকসভার সচিবালয়। সংসদের পর এবার টার্গেট বিধানসভা। হুঁশিয়ারি দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরাই আসল তৃণমূল। পাল্টা জবাব দিল ঋতব্রত-তৃণমূল।
বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের প্রতীকে জিতে আসা, ২০ জন লোকসভার সাংসদ NCPI-তে মিশে গিয়েছেন। ওই ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের দাবিতে প্রথমে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আর্জি জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, এক্ষেত্রে ৩ মাসের মধ্যে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অভিযোগ, সেই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায়, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত,বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ ২০ জন NCPI সাংসদকে নোটিস জারি করে বক্তব্য জানতে চাইল। দলত্যাগ-বিরোধী আইনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের লোকসভার সদস্যপদ বাতিলের জন্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তার প্রেক্ষিতে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিস পাঠিয়ে ৭ দিনের মধ্যে জবাব চাইল লোকসভা সচিবালয়।
সংসদে তৃণমূল ছেড়ে ২০জন সাংসদ NCPI-তে মিশে গিয়ে NDA-কে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন। বিধানসভাতেও দু’ভাগ হয়ে গেছে তৃণমূল।’কালীঘাট তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। NCPI-এর মতো ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বিজেপি ঘেঁষা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। একদিকে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট যখন NCPI সাংসদদের নোটিস পাঠাল, তখন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর উদ্দেশে হুঁশিয়ারি ছুড়ে দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ”এতই নিয়মবিরুদ্ধ কাজ আছে, যে সুপ্রিম কোর্টও বুঝে গেছে যে, এতে কী হচ্ছে! কারণ সুপ্রিম কোর্ট তো এর আগে ওই শিণ্ডের কেসটা শুনছে। তারপরে এল তৃণমূলের মামলা। ভারতবর্ষের গোটা সংসদীয় গণতন্ত্রটাকেই নষ্ট করে দিতে চাইছে শাসক দল। এবার বুঝবে সব। নোটিস তো ইস্যু হল, এর উত্তর তো দিতে হবে। স্পিকারকেও তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্পিকারও সিদ্ধান্ত নেননি। বরঞ্চ ওদের আসন আগে ঠিক করে দিয়েছেন, আমাদের আসন পিছনে রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ”এই সংসদ দিয়ে শুরু করলাম, এবার বিধানসভা। দেখছি ওদের।” ”বড় লোভ না? ওদের চামচাগিরি করা ছাড়িয়ে দেব।”