কলকাতা: শহর থেকে জেলা একাধিক জায়গায় ব্লাড ব্যাঙ্ক নিয়ে দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল স্বাস্থ্য দফতর। এরপরই, রক্ত-দুর্নীতি নিয়ে তদন্তে নামেন স্বাস্থ্য দফতরের অধিকারিকরা। আর তদন্তে নেমেই এবার আরও এক ভয়ঙ্কর তথ্য় পেল স্বাস্থ্য ভবন। পশ্চিমবঙ্গে রক্ত দুর্নীতিতেও ‘কাটমানি’র খেলা চলেছে, এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বাস্থ্য ভবনের হাতে। ছাত্র পিছু প্রতি ক্যাম্পের জন্য ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকত। আর এই টাকা থেকে ভাগ পেতেন ছাত্র নেতারা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্যে।
রক্ত-দুর্নীতির তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বাস্থ্য ভবনের হাতে। অভিযোগ, ডাক্তারি পড়ুয়া পিছু প্রতি ক্যাম্পের জন্য যে টাকা বরাদ্দ থাকত, সেই টাকা থেকে কাটমানি পেতেন ছাত্র নেতারা। তার থেকে রক্তদান শিবিরে যাওয়া ছাত্রদের দেওয়া হত ৮০০ টাকা করে। অর্থাৎ, ১২০০ বা ১৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পেতেন ডাক্তারি ছাত্ররা। আর ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা যেত ছাত্র নেতাদের পকেটে। এই পুরো ঘটনাতে স্বাস্থ্য দফতরের হাতে ৩ মেডিক্যাল কলেজের ৩ ছাত্রনেতার নাম উঠে এসেছে।
ঠিক কী কী তথ্য় উঠে এসেছে ?
বিভিন্ন বর্ষের মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ডাক্তার সাজিয়ে চলত রক্তদান শিবির, এমনই ভয়ঙ্কর তথ্য় উঠে আসছে। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় স্বাস্থ্য ভবনের স্ক্যানারে SSKM, NRS, ন্যাশনাল মেডিক্যালের শতাধিক পড়ুয়া রয়েছেন। তদন্তে নেমে শতাধিক মেডিক্যাল পড়ুয়ার নামও পেয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৮ অগস্ট রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে সোমবার ফের লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্কে যান তদন্তকারীরা। স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ড্রাগ কন্ট্রোল এবং অর্থ দফতরের আধিকারিকেরাও এ দিন অভিযানে ছিলেন। আর এই অভিযানের পর এমনই সব তথ্য় হাতে আসে স্বাস্থ্য ভবনের। সূত্রের খবর, লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযানে মিলেছে শতাধিক মেডিক্যাল ছাত্রের তালিকা। NRS, ন্যাশনাল মেডিক্যালের ফাইনাল ইয়ারের ৪ ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদেই উঠে এল রক্তে কাটমানি নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য। মঙ্গলবার এই ৪ ছাত্রকে স্বাস্থ্য ভবনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অধিকারিকরা। লেখানো হল মুচলেকাও। তবে, ডাক্তার না হয়েও কীভাবে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে সমস্ত রক্তদান শিবিরে যোগ দিচ্ছেন? নেপথ্যে আরও কারা কারা জড়িত উঠছে প্রশ্ন।