কলকাতা : ‘ভোট আপনারা করতে দেবেন না, তার বিকল্প ব্যবস্থা আছে।’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা বলছি ভোট করব, আর ওরা প্রকাশ্য রাস্তায় গো-মাতাকে ভক্ষণ করে যিনি হিন্দুদের আক্রমণ করেন, তাঁকে পাঠিয়েছে অবকাশকালীন বেঞ্চে…কোন বেঞ্চে গেলে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে বুঝে গেছে… ভোট আটকানোর জন্য। এভাবে তো পরিষেবা আটকাবে না কলকাতায়। আমি এসেছি বলে আজ ঝাঁ চকচকে রাস্তা। পাশে ব্লিচিং পড়ে গেছে। নিত্যদিন মনিটরিং করবে কে ? নিত্যদিন মনিটরিং করতে গেল পার্ষদ-কাউন্সিলর লাগবে। ভোট আপনারা করতে দেবেন না, তার বিকল্প ব্যবস্থা আছে। কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করে সব ওয়ার্ডে পরিষেবা চালু রাখব।” কলকাতা পুরভোটের দিন ঘোষণায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস মামলার সিঙ্গল বেঞ্চে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য় সরকার। ২০৯টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতা পুরসভার ভোট কি আদৌ ডিসেম্বরে হবে ? নাকি তা পিছিয়ে হবে আগামী বছরের শুরুতে ? শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ উস্কে দিল সেই জল্পনা। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় – ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাবে না।
মামলাকারীর আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, “খুব স্বাভাবিকভাবেই পুর নির্বাচনটাই এখন করা যাবে না। কারণ পুরনো যে ওয়ার্ড বিন্যাস ছিল, তার এখন অস্তিত্ব নেই আইনের বইতে। নতুন পুনর্বিন্যাস হয়েছে। যেটা সিঙ্গল বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে সিঙ্গল বেঞ্চ যতক্ষণ না পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যে, এই পুনর্বিন্যাস ভ্যালিড বা এই পুনর্বিন্যাস বাতিল হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন করা যাবে না।” পুনর্বিন্য়াসের ফলে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্য়া ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। এনিয়ে আপত্তি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপু দাস। প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চ, তারপর মামলা যায় ডিভিশন বেঞ্চে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতেই শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাবে না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে রাজ্য সরকার। ২০৯টি ওয়ার্ডে কোঅর্ডিনেটর নিয়োগের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।