প্রসূণ চক্রবর্তী, বাঁকুড়া: রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত বাঁকুড়ার বড়জোড়া। বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। থমথমে গোটা এলাকা। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিজেপির দলীয় কর্মসূচি কেন্দ্র করে এভাবেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাঁকুড়ার বড়জোড়া।
আরও পড়ুন, ভাল রেজাল্ট করায় নবম শ্রেণিরকে BMW উপহার বাবার, চোখ কপালে গলসিবাসীর
একদিকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর পাশাপাশি একের পর এক কর্মীর বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ করে এই ভিডিও সামনে আনল তৃণমূল কংগ্রেস।স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার দুর্গাপুর এলাকায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে বড়জোড়ার বিজেপি নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ গ্রামের বাইরে ছিলেন।
বিজেপির অভিযোগ, কর্মসূচি থেকে নেতা-কর্মীরা গ্রামে ফেরার আগেই তাজপুরে একের পর এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা । বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি চলে মারধর ও লুঠপাট। বড়জোড়া বিজেপি মণ্ডল সভাপতি ধনঞ্জয় গড়াই বলেন, আমাদের দুর্গাপুরে গণতন্ত্র বাঁচাও প্রোগ্রাম ছিল। সেই সময় তাজপুর ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে তৃণমূলের কিছু দুষকৃতী আমাদের কর্মীর ওপর চড়াও হয়।’
বাঁকুড়ার বড়জোড়া বিজেপি কর্মী রেজাউল মণ্ডল বলেন, ঘরে ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ছিল, দু’জোড়া কানের ছিল, এক বস্তা চাল ছিল, সব নিয়ে চলে গেছে।’বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের দলীয় কার্যালয়েও আগুন লাগিয়ে দেয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী।’ বিজেপি নেতা সায়দার মণ্ডল বলেন, সন্ধের সময় আনুমানিক ৬টা বাজে, সেই সময় আমাদের ৪-৫-৬টি ছেলে বসেছিল পার্টি অফিসে। ওরা অনেকগুলো গুন্ডাবাহিনী-দুষকৃতী তাঁরা এসে প্রথমেই তাঁদের বেধড়ক মারধর করে। এই পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমাদের টোটাল ৫ জন (আহত)।
অন্যদিকে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাই গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে। একের পর এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।তৃণমূল নেতা আমজাদ মণ্ডল বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটা সমপূর্ণ মিথ্যা। ওরাই আমাদের মনিরুল মণ্ডলের মুদিখানার দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর-লুটপাট করে। পুলিশ থাকাকালীন, আমাদের প্রায় ১৭টা বাড়ি ভাঙচুর এবং ব্যাপক হারে লুটপাট করে। ঘটনাস্থলে গিয়ে বড়জোড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে দাবি, বিজেপি ও তৃণমূলের তরফে করা মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।