সন্দীপ সরকার, কলকাতা: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে বেনজির অপারেশন। চুম্বকের সাহায্য়ে শিশুর পেট থেকে বের করা হল চুম্বক । লেদ কারখানা থেকে বিশেষ মাপের চুম্বক বানিয়ে এই অপারেশন করা হয়।মূলত বাদুড়িয়ায় ৬ বছরের এক শিশু চুম্বক গিলে ফেলেছিল বলে খবর। এরপরেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। SSKM-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। শেষমেশ মানিকতলার লেদ কারখানায় পৌঁছে যান কলকাতা মেডিক্যালের চিকিৎসকরা। বানিয়ে আনা হয় সাড়ে ৩ মিলিমিটারের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন চুম্বক। অবশেষে সেই চুম্বকের সাহায্য়ে শিশুর পেট থেকে বের করা হল গিলে ফেলা চুম্বক।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাদুড়িয়ায় ৬ বছরের শিশুটিকে গতকাল নিয়ে আসা হয়েছিল, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শিশুটি একটি চুম্বক গিলে ফেলেছিল। এবং ওই চুম্বক গিয়ে, তার শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এবং শ্বাসনালীতে আটকে থাকা চুম্বকটি, বের করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতা মেডিক্যালের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকেরা। কিন্তু যাযা চিকিৎসার সরঞ্জাম তাঁদের কাছে রয়েছে, তার মধ্যে কোনওটাই ওই শ্বাসনালীর যেই জায়গায় চুম্বক আটকে ছিল, ওই অবধি পৌঁছাতে পারছিল না। এরপরে কলকাতার আরও বেশ কয়েকটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যে, তাঁদের কাছে,এমন কোনও যন্ত্রাংশ আছে কিনা, যেটা দিয়ে শ্বাসনালীর ওই কঠিন জায়গায় গিয়ে, চুম্বকটিকে তুলে আনা যায়। কিন্তু সকলেই হাত তুলে দেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। শিশুটিকে ভেন্টিলেশনে দিয়ে দিতে হয়। ক্রমশ তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমতে থাকছিল। এরকম একটা পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নেন, যেভাবেই হোক চেষ্টা তাঁরা করবেন। এরপরেই কলকাতা মেডিক্যালের চিকিৎসকেরা, মানিকতলায় একটা লেড কারখানায় যান। সেখানে গিয়ে একটা বিশেষ মাপের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ৩.৫ মিলি মিটারের চুম্বক, বানিয়ে আনেন। যদি তার জন্য ওই কারখানার কর্মী কোনও পয়সা নেননি। এবং ওই চুম্বক দিয়েই শিশুটির শ্বাসনালিতে আটকে থাকা চুম্বককে বার করে নিয়ে আসে।