কলকাতা: কালীপুজোর আগে বাজারে জবা ফুলের চাহিদা তুঙ্গে। মা কালীর পুজোয় জবা ফুল ও ১০৮ জবার মালার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু উৎসবের মুখে সেই জবা ফুলই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাগনানের চাষিদের কাছে। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এ বছর গাছে ফুলের উৎপাদন ও আকার বেড়েছে অনেকটাই। ফলে একদিকে যেমন ফুল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে কালীপুজোর দিন টাটকা জবা ফুলের জোগান এবং দাম নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। চাষিদের আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় টাটকা ফুলের জোগান কম হলে কালীপুজোর আগে চড়তে পারে জবা ফুল ও মালার দাম। স্বাভাবিকভাবেই তাতে পকেটে টান পড়তে পারে ক্রেতাদের।

হাওড়ার বাগনান ফুল চাষের অন্যতম পরিচিত এলাকা। ওরফুলি, মালঞ্চ, হেলেদিপ-সহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার চাষি প্রতি বছর কালীপুজোকে সামনে রেখে জবা ফুলের চাষ করেন। সারা বছর এই সময়টার দিকেই তাকিয়ে থাকেন তাঁরা। কারণ, কালীপুজোর মরশুমে জবা ফুলের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই চলে চাষের প্রস্তুতি। কিন্তু এবছর আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণে বদলে গিয়েছে ফুল উৎপাদনের ছবিটাই।

চাষিদের বক্তব্য, নভেম্বর মাস পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টি এবং গরমের কারণে জবা গাছে প্রচুর ফুল ফুটেছে। শুধু সংখ্যাতেই নয়, ফুলের আকারও তুলনায় বড় হয়েছে। সাধারণত এই সময় আবহাওয়ায় শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করলেও এবছর সেভাবে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে না। তার প্রভাব পড়েছে ফুলের ফলনে। গাছে একসঙ্গে অনেক ফুল ফুটে যাওয়ায় উৎপাদনের বড় অংশ কোল্ড স্টোরেজে পাঠাতে হয়েছে। কিন্তু তাতেও কালীপুজোর দিনের টাটকা ফুলের চাহিদা কতটা মেটানো যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন চাষিরা।

চাষিদের আশঙ্কা, কোল্ড স্টোরেজে ফুল মজুত থাকলেও পুজোর দিন টাটকা জবা ফুলের চাহিদা আলাদা। ফলে সেই সময়ে বাজারে টাটকা ফুলের জোগান কম হলে দাম বাড়তে পারে। তাঁদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১০৮টি জবা ফুলের মালার দাম কমপক্ষে ১৫০ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, ১,০০০টি জবা ফুলের দাম পৌঁছতে পারে প্রায় ১,২০০ টাকায়। যদিও চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে পুজোর সময় বাজারে চাহিদা ও জোগানের উপর।

বাগনানের ফুলচাষি পুলক ধাড়া বলেন, কালীপুজোর দিন টাটকা জবা ফুল এবং ১০৮ জবার মালা কিনতে ক্রেতাদের মোটা টাকা খরচ করতে হতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এবছর ফুলের উৎপাদন ও আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ফলে পুজোর সময় বাজারে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।

আর এক ফুলচাষি প্রসাদ পাখিরার কথায়, সারা বছর এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন তাঁরা। কালীপুজোর মরশুমে ফুল বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়েই বছরের অনেকটা সময় সংসার চলে। তাই এবছর উৎপাদন বেশি হলেও শেষ পর্যন্ত কতটা লাভের মুখ দেখা যাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।

সব মিলিয়ে, কালীপুজোর আগে বাগনানের জবা ফুলের বাজারে এবার আবহাওয়াই বড় ফ্যাক্টর। গাছে ফুলের আধিক্য থাকলেও টাটকা ফুলের জোগান, সংরক্ষণ এবং পুজোর দিনের চাহিদা—সবকিছুর উপর নির্ভর করছে বাজারদর। ফলে মা কালীর পুজোয় জবা ফুল ও ১০৮ মালা কিনতে গিয়ে এবার ক্রেতাদের কিছুটা বেশি খরচ করতে হতে পারে। 

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *