ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম: ফের ভয়াবহ ঘটনা বীরভূম জেলায়। ব্রাহ্মণী নদী পেরোতে গিয়ে জলে তলিয়ে গেলেন দুই শ্রমিক। পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন দুজনেই। নিজেদের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে ব্রাহ্মণী নদী পেরোতে গিয়ে জলে তলিয়ে যান দুই শ্রমিক। ঘটনার পর শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। নামা হয় উদ্ধার কাজে।
স্থানীয় সুত্রে খবর, উদ্ধার কাজে একজনকে উদ্ধার করলেও আর একজনকে এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এখনও চলছে তল্লাশি। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকালে নলহাটি থানার বিলকান্দি গ্রামের কাছে ব্রাহ্মণী নদীতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নলহাটি থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দল স্পিড বোট নিয়ে নদীতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্য পাল(৩৪) ও তার এক বন্ধু গতকাল বিকেলে রাজমিস্ত্রির কাজ সেরে সাইকেল নিয়ে ব্রাহ্মণী নদী পার হচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎই জলের তোড় বেড়ে যায় এবং দুজনেই তলিয়ে যান। তাঁদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন এলাকার বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় পুলিশকেও। তবে, পুলিশ আসার আগে স্থানীয়রাই তৎপরতার সঙ্গে একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, সূর্য পালকে উদ্ধার করা যায়নি। সারারাত ধরে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি তাঁর। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন স্থানীয়রও।
আরও পড়ুন – আরও বিপাকে ইন্দ্রনীল সেন, MPO আইনের ২ ও ৯ নম্বর ধারা যুক্ত করার আবেদন, কী দাবি পুলিশের ?
উল্লেখ্য, এই নদীটি ঝাড়খণ্ড থেকে বেরিয়ে বীরভূম জেলার নারায়ণপুর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। এটি বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কান্দি মহকুমার কাছে ভাগীরথী নদীতে মিলিত হয়েছে। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে বিলকান্দি গ্রামের কাছে। কয়েক বছর আগেও একটি মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী ছিল নলহাটি। সে বার ফুলেফেঁপে ওঠা ব্রাহ্মণী নদীর জলের তোড়ে তলিয়ে যান এক যুবক। স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে অস্থায়ী রাস্তা দিয়ে তা বইতে শুরু করে। তারই তোড়ে তলিয়ে গিয়েছিলেন যুবক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, রাতে কাজ সেরে রামপুরহাট থেকে ফেরার পথে সাইকেল নিয়ে ব্রাক্ষণীর উপর অস্থায়ী রাস্তা পেরোচ্ছিলেন তিনি। সাইকেল-সহই তলিয়ে যান। পর দিন সকাল থেকে ডুবুরি নামিয়ে নদীতে তল্লাশি চালাতে হয় প্রশাসনকে।