কলকাতা: ভোট চুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছে INDI জোট। পাল্টা দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাল্টা পথে নামে বিজেপিও। গতকাল, হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে হল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা। আজ কলকাতাতেও মিছিলের আয়োজন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির। থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যরা।
আরও পড়ুন, মতুয়াদের জন্য ‘কল্পতরু’, কী কী প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর ?
বিরোধী জোটের কর্মসূচির দিনেই বিজেপিরও বড় কর্মসূচি। একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করল বিজেপি। কোথাও বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতির নেতৃত্বে হল মিছিল, কোথাও উপস্থিত থাকলেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। একদিকে যখন ভোটচুরির অভিযোগকে হাতিয়ার করে দিল্লিতে মেগা কর্মসূচি করছে বিরোধী জোট, সেদিনই একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করল বিজেপি।
প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, আমার গোটা জীবনে দিল্লিতে এমন সমাবেশ আমি আর কখনও দেখিনি। এটাই স্পষ্ট করে দেয় যে, বিজেপির বিদায়ের দিন ঘনিয়ে আসছে। হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে হল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা। দিল্লিতে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রায় সামিল হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। মিছিলে সামিল হন দিল্লির বিজেপি সভাপতি হর্ষ মলহোত্রাও। ১৯৮৪ সালে শিখ-বিরোধী হিংসায় নিহতদের স্মরণ করে এদিন মাথায় কালো কাপড় বেঁধে মিছিলে হাঁটেন দিল্লির বিজেপি নেতারা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, আমাদের পার্টি প্রেস কনফারেন্স করে বলেছে ১, ২, ৩ আপনি রাখবেন না। এগুলো শিখ দাঙ্গার দিন। এতে শিখ বন্ধুদের, মায়েদের, বাচ্চাদের, বোনেদের আবেগে আঘাত লাগবে।কিন্তু উনি জেদ করেছেন। বিদেশ থেকে পার্টিকে অর্ডার করেছেন, ওই দিনই জলসা হবে যেদিন হাজারো শিখকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি আজ গুরুর এই ভূমি থেকে এদের কুৎসিত উদ্যোগের তীব্র ভর্ৎসনা করি, নিন্দা করি। এটা কখনও ভারত আর পাঞ্জাব কখনও ভুলতে পারবে না।
দিল্লি ও হরিয়ানার পাশাপাশি সিমলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রায় নেতৃত্ব দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মিছিলে ছিলেন অনুরাগ ঠাকুর-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, SIR না হলে অনুপ্রবেশকারীদের নাম কী করে কাটা যাবে? আগে কংগ্রেসের সরকার ইস্তফা দিক। তারপর আমাদের কাছে এসো। যেখানে কংগ্রেসের সরকার সেখানে ভাল, আর যেখানে বিজেপি সরকার সেখানে ভোট চুরি? কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলট বলেন, সরকার চাইছে চাপে রেখে মানুষকে নিজের কথা বলা বন্ধ করাবে। কিন্তু না রাহুল গান্ধী পিছু হঠবেন, না আমাদের INDI জোটের কোনও নেতা পিছু হঠবেন।