কলকাতা: আশঙ্কা ছিলই। শেষ পর্যন্ত তাতেই সিলমোহর পড়ল। জানিয়ে দিল আবহাওয়া দফতর। ‘অর্ণবের’ পরে এবার তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। সাগরে তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, অন্ধ্রপ্রদেশে হবে ল্যান্ডফল। মঙ্গলবার সকালের মধ্যে মছলিপত্তনমের কাছে ল্যান্ডফল হতে পারে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে মেঘলা আকাশে ঢেকে থাকবে। মাঝারি বৃষ্টিতের সম্ভাবনাও আছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অতি গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় “মুরাসু”-তে পরিণত হয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উত্তর তামিলনাড়ু উপকূলের জন্য ফের ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। বর্তমানে এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির বড় কোনও সতর্কতা জারি না হলেও, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, সমগ্র পরিস্থিতির উপর নজরদারি চলছে এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
৩ নভেম্বর ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্ধ্র উপকূলে ল্যান্ডফলের সময় ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ল্যান্ডফলের সময় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ঝোড়ো হাওয়ার দাপট থাকবে যথেষ্ট বেশি। আপাতত আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উত্তর তামিলনাড়ু উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ভালরকম প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন মূলত, ৩ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হাল্কা থেকে আঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, এই ৫ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড়ের সতর্কতা নেই। ৪ নভেম্বরের পর শুকনো আবহাওয়া থাকবে উত্তরের জেলাগুলিতে। ঝড়বৃষ্টি হবে না। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও কমবে ঝড়বৃষ্টি। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া – এই জেলাগুলিতে ৩ ও ৪ নভেম্বর হাল্কা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে। ঝড়ের সতর্কতা নেই। ৪ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে।