কলকাতা: বারুইপুরের সব থেকে আজ নাম না করে আক্রমণ করলেন ‘বড় চোর’কে। একই সঙ্গে হেরে যাওয়া নিয়ে নাম করে তিনি কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ ছাড়াও তাঁর মুখে শোনা যায় ডিজে বাজানো নিয়ে কটাক্ষও।
আরও পড়ুন: মমতা তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যের আত্মীয়ের বাড়িতে হামলা, গর্ভে মৃত্যু সন্তানের
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “এরা কলকাতাতে আর আপনাদের এখানে ঢুকতে পারছে না। এরা চলে যাচ্ছে দিল্লি। একদিকে সিপিএম। আর অন্যদিকে যে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল করেছিল, এখন সেই কংগ্রেসের পায়ে পড়েছে। আপনি যান দিল্লিতে। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু হইব না। যত ভোট হবে আপনি হারবেন। আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে বড় চোরটা কবে যাবে? বড় চোর যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই। একজন জেলে গিয়েছে। ডুয়েটে লাস্ট গান গেয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ইন্দ্রনীল সেন। অতএব চলে গিয়েছেন। এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
তার আগে যদিও তিনি ডিজে বাজানো ও ইলেকট্রিক চুল্লি নিয়ে আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “এই যে এঁচড়ে পাকা ভাইপো। এগারো সালের পরে আসা। ভোটের আগে ফলতাতে বলেছিল না, জাহাঙ্গির তুমি ইলেকট্রিক চুল্লি চেয়েছ। আমি দিলাম। কারণ, ৪ মের পর বিজেপির অনেকের হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাবে। তাদের ইলেকট্রিক চুল্লিতে পোড়াব। বলেছিল? কী বলেছিল? ডিজে বাজাব, অমিত শাহ যেন কলকাতাতে থাকে।”
এদিন সভা থেকে ৭ লক্ষ ভোট জেতা নিয়েও কটাক্ষ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে। তিনি বলেন, “৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন উনি, ৬ মাস আপনি কোথায়? আমরা বিরোধী দলে ছিলাম। এত দুর্দিন ছিল না। শাসকদলকে ১০০ জন ডাকলে আমাদের কেউ পুজোয় ২০ জন ডাকতো। আর এই পিসি ভাইপোকে গোটা পশ্চিমবঙ্গের একটা পুজোতে ডাকেনি। ডাকবে কেন?”
এ ছাড়াও এদিন নাম করে বিভিন্ন বিষয়ে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তিনি বলেন, “৫০০ বছরের লড়াই করার পরে যখন রাম মন্দির হয়েছে, ২২ জানুয়ারি ২০২৪। রাম মন্দিরের দিন কোন মুখ্যমন্ত্রী মিছিল করেছিলেন পার্ক সার্কাসে? রাম মন্দির মানছি না, মানবো না; তার নাম মমতা ব্যানার্জী। পূজায় ডাকবে কেন? যিনি হিন্দু ধর্মকে গন্ধা ধর্ম বলেন, তাঁকে ডাকবে কেন? যিনি মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেন, ডাকবে কেন?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেরে যাওয়া নিয়েও এদিনের সভা থেকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যিনি আমার কাছে দু’বার হেরেছেন। একুশে নন্দীগ্রামে এবারে ভবানীপুরে। নিজের পাড়ায় হেরেছেন, বুথে হেরেছেন, ওয়ার্ডে হেরেছেন, দুবার ডবল হেরেছেন। সাহস থাকলে আবার লড়ুন। আপনাকে আবার হারাবো আমি। যদি ক্ষমতা থাকে লড়ুন।”