কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় সদ্যই একটি অনুষ্ঠানের ছবি শেয়ার হতেই, কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় (Pousali Banerjee)। তাঁর মঞ্চানুষ্ঠান বেশ জনপ্রিয়, তাঁর গানের ধারার অনুরাগীও অনেক। সোশ্যাল মিডিয়ায় হামেশাই নিজের অনুষ্ঠানের টুকরো টুকরো ছবি শেয়ার করে নেন পৌষালী। তবে সদ্যই সমাজমাধ্যমে তাঁর ছবি ও গানের ভিডিও ঘিরে ধেয়ে আসে, একাধিক নেতিবাচক মন্তব্য। আপত্তিকর মন্তব্য থেকে শুরু করে, তাঁর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ পর্যন্ত ধেয়ে আসে। আর এবার, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সমস্ত কটাক্ষ নিয়ে মুখ খুললেন, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী পৌষালী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ পৌষালী লিখেছেন, ‘বেশ কিছুদিন হল, অনেক কিছু দেখছি, অনেক কিছু পড়ছি। এবং উপভোগ করছি… হ্যাঁ, উপভোগই করছি, খুব সচেতন ভাবেই বলছি, গ্রহণ করছি না। আমার গান, আমার শৈল্পিক পরিবেশনা, এ নিয়ে পছন্দ বা অপছন্দ থাকতেই পারে; তবে তার উর্দ্ধে গিয়ে যখন অপছন্দের বহিঃপ্রকাশ অপমান হয়ে ওঠে, সেটাও যখন কেবল আমার উপর না থেকে হাজার হাজার নারীর দেহ, মন আর সম্মানকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়…. তখন কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে যায় বৈকি। যদি খুব শালীনতা বজায় রেখে বিষয়টা উপস্থাপন করতে হয়, তবে বিষয়টা এরকম, একটা কমেন্ট এল, ‘পৌষালী আপনি যৌনকর্মীদের পাড়ায় গিয়ে গান করুন!’ মাথায় রাখবেন, ‘আপনি’, ‘যৌনকর্মী’, এই শব্দগুলো কোনোটাই সেখানে ছিল না! এবং যিনি এটা লিখেছেন মনে রাখবেন তিনি একজন মহিলা।’
পৌষালী আরও লিখেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার আরামে সে নারী বোধহয় সারাদিন পারিবারিক হিংসার শিকার হন, আর তারপর সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে নিজের বিকৃতিকে তুলে ধরেন; এর বেশি আর কি বলতে পারি। যিনি বা যারা এ ধরণের কথা অবলীলাক্রমে বলে এসেছেন, বলেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন তাদের বলছি, নিজের জন্য খারাপ লাগে না, কোনও যৌনকর্মী বোন যদি কোনোদিন আমার থেকে গান শুনতে চান, তাকে বুকে জড়িয়ে ‘কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ’ আমি বারংবার শোনাবোই! তাতে আপনাদের সতীত্বে যদি লিপ্সার আঘাত লাগে আপনারা আমায় ত্যাগ করতে পারেন। আহারে মানুষ, জীবন যাদের কিছুই দিল না, তাদের প্রতি আক্রোশ থেকে এত পাশবিক কেন?’
পৌষালী আরও লিখেছেন, ‘কিছু বিষয় একটু স্পষ্ট করে দিই… ‘আমি গান গাই কম, নাচি বেশি’- উত্তর- তা বেশ করি, আপনি নাচতে পারেন না, অনুগ্রহ করে উঠোন বাঁকাবেন না ! ‘খাজনার থেকে বাজনা বেশি’- উত্তর- তা বেশি বৈকি! অনুসঙ্গ এবং গীত নিয়েই তো সঙ্গীত; অবশ্য এত বোঝার জন্য অনেককেই ডিকশনারি খুলতে হবে! “ইশ কি রোগা! ওরে বাবা কি মোটা হয়ে গেছে!’ – উত্তর- একদিন… আগে… একটু ডেকে খাওয়ান তো দেখি! তারপর আপনার টা শুনব! না না! সত্যি শুনব… তার আগে আর কিছু বলার থাকলে কমেন্ট করতে থাকুন, এই যা বলার বললাম! আর লিখব না, আর যদি ভাবেন পাত্তা পাবেন, ভাবতে থাকুন! হরে কৃষ্ণ।’