গাইঘাটা: বারুইপুরের পুনরাবৃত্তি গাইঘাটায়। নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের দায়ে ধৃত প্রভাস দাসের এনকাউন্টার। পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে প্রহ্লাদ পালানোর চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় বলে অভিযোগ। এনকাউন্টারের খবর পেয়েছেন নির্যাতিতার বাবাও। অস্ত্র ছিনিয়ে পালাতে গেলে পুলিশ করবেই বলে মত তাঁর। কিন্তু কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসছে তাঁর। বললেন, “আমার জিনিস কি আমি আর ফিরে পাব?” (Gaighata Encounter)
মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে প্রহ্লাদ। সেই খবর পেয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “মেয়েকে হারিয়েছি। আর পাব? যা শুনেছি, তাতে পুলিশের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ গুলি করেছে। আমার জিনিস কি আর আমি পাব? যা হয়েছে ভাল হয়sছে। পালানোর চেষ্ট করলে গুলি তো করবেই। কিন্তু আমার মেয়েকে কি আর পাব ফিরে?” (Gaighata Assault Case)
গাইঘাটার এনকাউন্টারের সঙ্গে বারুইপুরের এনকাউন্টারের মিল পাচ্ছেন অনেকে। নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় বারুইপুরেও এনকাউন্টার হয়। ঘটনার পুনর্নির্মাণে সেবার প্রভাস মণ্ডলকে ভোররাতে অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রভাসও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় গুলি ছোড়া হয়। এক্ষেত্রেও পুলিশের দাবি, প্রহ্লাদও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রথমে ধরার চেষ্টা করা হয় তাকে। পরে গুলি করা হয়।
বারুইপুরের ক্ষেত্রে বলা হয়েছিল, পুলিশের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। এক্ষেত্রেও পুলিশের দাবি, প্রহ্লাদ পুলিশের আধিকারিকের অস্ত্র ছিনিয়ে পালাতে যাচ্ছিল। গাইঘাটায় এনকাউন্টার স্থল থেকে থানার দূরত্ব ১.৭ কিলোমিটারের মতো। বারুইপুরের ক্ষেত্রেও থানার দূরত্ব প্রায় একই ছিল। থানার দিকে নিয়ে যাওয়ার সময়ই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। দুই ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত পালিয়ে যাচ্ছিল বলে দাবি।
তবে এক্ষেত্রে কিছুটা আলাদা ঘটনাক্রম। গাইঘাটা পুলিশ জানিয়েছে, প্রহ্লাদ সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে তিনি রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পুলিশের গাড়িতে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলে কাচ পড়ে থাকতেও দেখা যায়। যে SI-এর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় প্রহ্লাদ, তিনি কোনও রকমে পাশের ঝোপ থেকে ঝাঁপ দেন। তিনি আহত হয়েছেন। চিকিৎসা চলছে তাঁর।
ওই জায়গা এখন ঘিরে রাখা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মোট সাত রাউন্ড গুলি চালিয়েছে এনকাউন্টার স্থলে। প্রহ্লাদ পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তাকে বাগে পেতে বাকি চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। তবে জলাশয়, ধানক্ষেত, জঙ্গল এলাকায় বসতি নেই। ভোররাতে রাস্তাও ফাঁকা ছিল। ফলে গুলির শব্দ কানে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই তেমন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা পুনর্নির্মাণ করে ফিরে যাওয়ার সময় প্রস্রাব করতে চায় প্রহ্লাদ। সেই সময়ই অস্ত্র ছিনতাই করে গুলি চালায় সে। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও।