গৌতম মণ্ডল, কলকাতা: আগামীকাল থেকেই বদলে যাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া, হতে পারে প্রবল বৃষ্টিপাত। ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ‘অর্ণব’। শক্তি বৃদ্ধি করে ইতিমধ্য়েই এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আজ ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর। এরপর বুধবার ল্য়ান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও বাপাটলার মধ্যে ল্যান্ডফল হতে পারে ঘূর্ণিঝড়টির। সেই সময় দমকা হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে আগামীকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ধাপে ধাপে শুরু হতে পারে বৃষ্টি। বুধবার বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণ।
ধেয়ে আসছে ‘অর্ণব’, বাড়তি সতর্কতা দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূল ও সুন্দরবন এলাকায়
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূল ও সুন্দরবন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া চলার আশঙ্কা রয়েছে। এর সঙ্গে নিম্নচাপ এবং দোসর পূর্ণিমার ভরা কটাল। ফলে নদী ও সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই নামখানা-সহ উপকূলবর্তী বিভিন্ন থানার পক্ষ থেকে মাইক প্রচার শুরু হয়েছে। নদী ও সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের আজ সন্ধ্যার মধ্যে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় গঙ্গাসাগর, বকখালি ও মৌসুনিতে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। সুন্দরবনের সমস্ত ব্লক প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন। দুর্যোগের আশঙ্কায় উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক প্রচারও জোরদার করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের মূল ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা অন্ধ্রপ্রদেশে। বুধবার হতে পারে ল্যান্ডফল। মৌসম ভবন জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিবেগে গত ৬ ঘণ্টা ধরে এগোচ্ছে এই গভীর নিম্নচাপ। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই নিম্নচাপ। এখনও পর্যন্ত যা বোঝা যাচ্ছে তাতে এটা আরও পশ্চিমের দিকে সরবে এবং আজকের মধ্যে এটা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। কালকের মধ্যে এটা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপরেও সে আরও শক্তি বাড়াবে ও উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে। এখনও পর্যন্ত যা আশঙ্কা, তাতে ২৮ অক্টোবর এটি অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে।