কলকাতা: এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে ভয়ঙ্কর অভিযোগ। টাকার বিনিময়ে ইন্টার্নশিপের ডিউটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপে ডিউটি অনুযায়ী বেঁধে দেওয়া হচ্ছে রেটচার্ট। সেই চ্যাট ভাইরাল হতেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
টাকার বিনিময়ে ইন্টার্নশিপ চলাকালীন ডিউটিতে ফাঁকি দেওয়ার ফন্দি? হোয়াটসঅ্য়াপে রীতি মতো গ্রুপ খুলে চলছিল ডিউটি বিক্রি? NRS মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্নদের একাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেই গ্রুপের স্ক্রিন শর্ট ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গেছে।
সেখানে দেখা যাচ্ছে ২৬৬ জন ইন্টার্ন রয়েছে একটি হোয়াটসগ্রুপে। সেখানে রীতিমতো ডিউটির বিনিময়ে দরাদরি চলছে। হোয়াটস অ্য়াপ গ্রুপের চ্যাট অনুযায়ী একজন বলছেন, আজ তাঁর নাইট ডিউটি রয়েছে রাত ১০ থেকে সকাল ৮ পর্যন্ত, কিন্তু তিনি তা করতে চান না। তখন একজন পাল্টা বলছেন এই ডিউটি তিনি করে দিতে পারেন, কিন্তু তার জন্য প্রতি ঘণ্টা আড়াইশো টাকা দিতে হবে। একজন আবার গ্রুপে জিজ্ঞাসা করছেন, প্যাথোলজিতে ৩ দিনের ডিউটি আছে, প্রতি ঘণ্টা ২০০ টাকা করে মিলবে।
জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট চিকিৎসক ও সদস্য দেবাশিস হালদার বলেন, ‘অনৈতিক জিনিস যদি হয়, তাহলে এটা এতদিন হচ্ছে কী করে? এরকম একটা যদি ঘটনা ঘটে, প্রথমত তদন্ত হোক। বিভাগীয় প্রধান, সুপার, অধ্যক্ষ, তারা সবাই কি জেনে এরকম একটা ব্যবস্থা চালাচ্ছেন? এটাকে সমর্থন করার জায়গা নেই।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ‘এটা স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তের সুফল। যারা এই হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপটা পরিচালনা করছেন, যারা অ্যাডমিন, তাদের সজাগ করে দিলাম। ডিউটি বিক্রির যেসব হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপ তৈরি হয়েছিল, তাতে স্বাস্থ্য দফতর ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীও ঢুকে পড়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় ডিউটি বিক্রি হচ্ছিল। আর হবে না।’
প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী আসেন NRS মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই যদি ইন্টার্নদের একাংশের মধ্যে এভাবে ডিউট কেনা-বেচা নিয়ে কথা হয়, তাহলে রোগীদের আস্থা-ভরসায় কি ধাক্কা লাগবে না?