আশাবুল হোসেন, দীপক ঘোষ, কলকাতা: চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনায়, নিরীহদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার সামনে ধর্না দিলেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আর সেই সময়েই থানার বাইরে চলল বিজেপির বিক্ষোভ।ধেয়ে এল চোর কটাক্ষ।
আরও পড়ুন, ‘ভেবেছিলাম, মমতা বলবেন, সবাই মিলে লড়ে দেখাই’, পুরভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই মন্তব্য মদন মিত্রের
সপ্তমীর সন্ধেয় চোরবাগান বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। সেই ঘটনায় আসল অপরাধীদের বদলে নির্দোষদের গ্রেফতার করা হচ্ছে… এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার দুপুর ৩টে নাগাদ আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার সিঁড়িতে বসে পড়েন কুণাল ঘোষ। মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, চোরবাগানের মাথা কমিটির যারা তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর যারা চোরবাগান নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল, তাদের একে ওকে তাকে ভুয়ো অভিযোগ দিয়ে তুলে আনছে।’ প্রায় ১৫ মিনিট ধর্না দেওয়ার পর থানার ভিতরে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক।
সেই সময়ে থানার বাইরে জড়ো হন একদল বিজেপি নেতা-কর্মী। কলকাতা পুরসভা ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিজেপি সভাপতি সৌরিশ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, এই চোর কুণাল। বার কর কুণালকে। বার কর কুণালকে। চোর ঢুকেছে। এই চোর চোর। বার কর। ওই চোর। কুণার চোর। চোর কুণাল। ও যদি না বেরোয়, জবাব দেব। ও কী করতে এখানে এসেছে? একটা দেশদ্রোহীকে বাঁচাতে এসেছে এখানে? যে দেশদ্রোহী বাংলাদেশের ছবি পোস্ট করে। যে দেশদ্রোহীকে বাঁচাচ্ছে, সেও দেশদ্রোহী।
কুণাল ঘোষ থানা থেকে বেরিয়ে আসার সময়েও ওঠে চোর স্লোগান। মমতা তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, এগুলো কী হচ্ছে ? সভ্য় শহরে কেউ যাতায়াত করবে না?’ কুণাল ঘোষ এখনও ধর্নায় বসে রয়েছেন, তাঁর দাবি তৃণমূল কর্মীদের ভুয়ো কেসে বা পুরনো কেসে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, যারা অন্য়ায় করবে, আইন মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কুণাল ঘোষও তো প্রতিবাদ করেছিল, সেই প্রতিবাদ তো এখন উল্টে নিয়েছে। মমতা সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। যারা ভুলপথে চালিত করছে, যারা সোশাল মিডিয়ায় ভুল খবর ছড়াচ্ছে, যারা সোশাল মিডিয়ায় এটা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে হতে পারে।’
মমতা তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, চোরবাগান কেসটায় এতটা ভয় পেয়েছে, যে কোনও মূল্য়ে সেটা থামাতে হবে, কারণ ওখানে জেলা সভাপতি আছে বিজেপির। বিজেপির জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার উল্টোদিকে থাকে। তার বদলে পুরনো কেস দিয়ে সাজিয়ে, সাক্ষী সাজিয়ে, আমাদের কর্মীকে গ্রেফতার করতে হচ্ছে।’ সব মিলিয়ে চোরবাগানকাণ্ডে তরজা তুঙ্গে।