কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট। প্রাণ চলে গিয়েছে শিশু-সহ ১৯ জনের। সেই নিয়ে দায় ঠেলাঠেলির মধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন ঘোষক বাবু মজুমদার। এবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন বাবুর স্ত্রী।  তাঁর অভিযোগ, ২৭ তারিখের আগে থানায় আত্মসমর্পণ করতে বারণ করা হয়েছিল তাঁর স্বামীকে। ওই দিন মণ্ডপে দু’জন মাইকে ঘোষণা করছিলেন। প্যান্ডেল ভাঙা হয়েছিল বলতে বলা হয়েছিল তাঁদের। তাই ঘোষণা করা হয়েছিল। (Chorbagan Stampede Case)

শুক্রবার এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হন বাবুর স্ত্রী। তিনি বলেন, “ঘটনার পরই ও বাড়ি এসে জামা-কাপড় ছেড়ে আবার মাঠি গিয়েছে। সাধারণ মানুষ যে বিপদে পড়েছে, তাদের সাহায্য় করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। তার পর থেকে আর বাড়িতে আসেনি। ও আমাকে বলল যে, ‘আমি থানায় যেতে চাইছি। কিন্তু আমাকে কেউ বারণ করছে যে, ২৭ তারিখের আগে থানায় যাস না’।” (Chorbagan Stampede Incident)

আরও পড়ুন: অরুণাচলে মুখোমুখি ভারত ও চিন? বিবাদ চলছে এখনও? ITBP প্রধানের মন্তব্যে নতুন করে জলঘোলা, কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন কংগ্রেসের

কিন্তু আত্মসমর্পণ করতে কে বারণ করেছিল বাবুকে? তাঁর স্ত্রী বলেন, “সেটা আমি বলতে পারব না। সেটা ও-ই বলতে পারবে। সেটা আমি জানি না।” স্বামীর সঙ্গে কী কথা হয় তাঁর জানতে চাইলে বলেন, “(বাবু বলেন) তাই আমি সামনে আসছি না। খুব তাড়াতাড়ি, যতদূর সম্ভব আমি চলে আসব’। ঘোষণা সন্টুদা আর ও, ও-ও ছিল। দু’জন ছিল। এবার কে করেছে আমি একদমই বলতে পারছি না।”

ওই দিন কী ঘটেছিল জানতে চাইলে বাবুর স্ত্রী বলেন, “সেই সময় খুব বৃষ্টি পড়ছিল বলে আমি বাড়ি থেকে বেরোইনি। রেডি হয়ে বসেছিলাম মাঠে যাওয়ার জন্য়। হঠাৎ আমার স্বামী আসে এবং বলে যে, ‘মাঠের অবস্থা খুব খারাপ। এখন একদম বাড়ি থেকে বেরিও না’। আমি বললাম, কেন, কী হয়েছে? বলল, ‘মাঠে নাকি ভেঙে গিয়েছে। মাঠের ভিতরে…তার জন্য় মানুষ অনেক হুড়োহুড়ি করে ওখানে মারা গিয়েছে। মারা গিয়েছে হয়ত অসুস্থও হয়েছে। তাদের এখন সাহায্য় করতে হবে। আমার কথা বলার সময় নেই। আমি ফোন রেখে যাচ্ছি। বেরোচ্ছি’। হাফ প্যান্ট, স্যান্ডো গেঞ্জি, গামছা নিয়ে ও বেরিয়ে গিয়েছে। জুতোও পরেনি, কিচ্ছু না। তার পরই আমি শুনছি পুলিশ ওদের খোঁজাখুঁজি করছি।”

আরও পড়ুন: জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত, মাটি কাঁপল চিনেরও, নেপালে বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই

অর্থাৎ পালিয়ে গিয়েছিলেন বাবু? তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য, “পালিয়ে যায়। কোথায় ছিল বলতে পারব না। ও পালিয়ে গিয়েছে, আমাকে বলেছে,’আমি ঠিক আছি। তুমি চিন্তা কোরো না এটা নিয়ে’। আমার সঙ্গে মাঝে মধ্য়ে যোগাযোগ হতো। মাইকিংটা করেছিল। তাকে বলা হয়েছিল ভিতরে প্যান্ডেল ভাঙা হয়েছে। মানুষ যাতে আর ভিতরে না যায়।” কমিটির অন্য লোকজনই কি ওই ঘোষণা করতে বলেছিলেন? বাবুর স্ত্রী বলেন, “হয়ত, হতে পারে। সে বলেছে, ‘আমি ঠিক কথা বলব। কারণ আমাকে যে বলেছে, সেও জানে আমাকে কে বলেছে, আমিও জানি কে বলেছে। আমিও ঠিক বলে দেব’।” 

তাহলে কি পুজো কমিটির কোনও বড় মাথা ওই ঘোষণা করতে বলেছিলেন? বাবুর স্ত্রী বলেন, “হ্য়াঁ, হ্যাঁ…বড় মাথা, না ছোট মাথা জানি না। কিন্তু পুজোর সঙ্গে যুক্ত।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *