কলকাতা: কীভাবে চোরবাগানে সপ্তমীর দিন ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, আজ ফের মণ্ডপে গেলেন তদন্তকারী দল। তাঁরা বিষয়টা খতিয়ে দেখেন। আর সেই তদন্তেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য! ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মণ্ডপের ভিতরে ঠাণ্ডা আবহ তৈরি করার জন্য ছিল না পর্যাপ্ত বাতানুকুল যন্ত্র। আর সেই কারণেই দমবন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মণ্ডপের ভিতরেই। ২৪ টি এসি কাজ করলেও যথেষ্ট কুলিং হচ্ছিল না, এমনটাই জানিয়েছে ফরেন্সিক টিম।
ফরেন্সিক রিপোর্টে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য
গতকাল এবং আজ মিলিয়ে চোরবাগানের মণ্ডপে দীর্ঘক্ষণ ছিল তদন্তকারী দল। আর এরপরে তাঁরা জানিয়েছেন, মণ্ডপে মোট ১৩৪ টনের ২৪ টি এসি-র আউটলেট ছিল। তাঁরা মনে করছেন, ভিড়ে ঠাসা ওই মণ্ডপে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন দিতে ২৪ টি এসি ছিল অপ্রতুল। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছে, ফরেন্সিক দল। মণ্ডপের ভেন্টিলেশন সিস্টেম খতিয়ে দেখার পর মত ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের মত, ২৪ টি এসি কাজ করলেও যথেষ্ট কুলিং হচ্ছিল না। আর কুলিং না হওয়ায় ভিতরে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর ফলে, একসঙ্গে মণ্ডপ থেকে বেরনোর চেষ্টা করে বহু মানুষ। ফলে পদপিষ্ট হওয়ার পর অনেকের শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়। এই তথ্য রিপোর্ট আকারে রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেবেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা, এমনটাই জানানো হয়েছে।
মণ্ডপের ভিতর কী পরিস্থিতি ছিল, খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী দল
পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত শেষ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত অক্ষতই রাখা হবে মণ্ডপ। কোনও জিনিস এদিক ওদিক করা যাবে না। তবে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নিয়মমাফিক ঘট বিসর্জন করা হয়ে গিয়েছে। মণ্ডপের অন্ধকারে এখনও একা পড়ে রয়েছে প্রতিমা। গতকালও SIT-র চেয়ারপার্সন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে সদস্যরা যান ঘটনাস্থলে। গতকাল সন্ধেয় এলাকায় পৌঁছে মণ্ডপের ভিতর ও বাইরের অংশ খতিয়ে দেখেন SIT-র সদস্যরা। তদন্তকারী দলের সঙ্গে ছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও। অন্যদিকে চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
আরও পড়ুন: Chorbagan Stampede: ভাঙা হবে না মণ্ডপ, প্রতিমা বিসর্জন নিয়েও ধোঁয়াশা! অন্ধকার পড়ে রয়েছে চোরবাগান