রানা দাস, পূর্ব বর্ধমান: কাটোয়ায় তৃণমূলকর্মীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি নেতা। অভিযুক্তকে নিয়ে আবার দুই বিজেপি নেতার ভিন্ন ভিন্ন মত সামনে এসেছে। ধৃতের দাবি, বিজেপি কর্মীরাই তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। বিজেপি-র শহর সভাপতির দাবি, ধৃত আগে বিজেপি করতেন। কিন্তু এখন দলে নেই। অ্য দিকে বিজেপি-র জেলা সহ-সভাপতি আবার ধৃতের পাশে দাঁড়িয়েছেন। (BJP Leader Beats up TMC Worker)

কাটোয়ায় বাড়িতে ঢুকে তৃণমূলকর্মীকে মারধরের অভিযোগ বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন শহর সম্পাদক প্রসেনজিৎ মোদকের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, খালি গায়ে উবু হয়ে বিজেপি নেতার পায়ের সামনে পডে রয়েছেন তৃণমূল কর্মী। বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যায়, “কালকের মধ্যে টাকা দিবি। বল ভুল হয়ে গিয়েছে…।” (Katwa News)

ওই তৃণমূলকর্মীকে বলতে শোনা যায়, “পায়ে পড়ছি”। বাড়ির এক মহিলাকে মারধরে বাধা দিতেও শোনা যায়। তিনি কাতর গলায় বলেন, “আর নয়, আর নয়।” ওই বিজেপি নেতা ক্ষমা চাইতে বলেন তৃমমূল কর্মীকে। আর একজন পাশ থেকে বলেন, “ক্ষমা চাও পা ধরে। বলো, ভুল হয়ে গিয়েছে।” একসময় ওই তৃণমূলকর্মী তাঁকে গালাগালি দেন বলে অভিযোগ করেন প্রসেনজিৎ।

আরও পড়ুন: সত্যি সত্যিই ডেমোগর্গন চলে এল পৃথিবীতে? সিসিটিভিতে রহস্যময় প্রাণীর দেখা মিলল, অন্য ডাইমেনশন থেকে এসেছে বলে দাবি

জানা গিয়েছে, ভোরবেলা বাড়িতে ঢুকে, মা, স্ত্রী এবং বাচ্চার সামনেই বেধড়ক মারধর করা হয় ওই তৃণমূলকর্মীকে। মেরে কার্যত মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়। মারধরের ওই ভিডিও-ও বিজেপি-র তরফেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে বিতর্ক শুরু হয়। তার পরই প্রসেনজিৎকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তৃণমূলকর্মীর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গ্রেফতার করা হয় প্রসেনজিৎকে।

তবে প্রসেনজিৎকে নিয়ে বিজেপি-র অন্দরে দ্বিমত ধরা পড়েছে। বিজেপি-র নগর সাংগঠনিক সভাপতি সুমন দেবনাথ জানিয়েছেন, প্রসেনজিৎ একসময় বিজেপি-তে পদে ছিলেন। এখন কোনও ভাবেই বিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর কথায়, “প্রসেনজিৎ মোদকের সঙ্গে এখন বিজেপি-র কোনও সম্পর্ক নেই। হ্যাঁ অবশ্যই একসময় পুরনো কর্মী ছিলেন, কাটোয়া পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীও ছিলেন। এর মধ্যে মিথ্যে নেই। তবে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কোনও সম্পর্ক নেই। দলের পদাধিকারী ব্যক্তিও যদি অনৈতিক কাজ করেন, আইন নিজের মতো কাজ করবে।” 

আরও পড়ুন: দুর্নীতি, ভোটচুরির অভিযোগ, পুড়িয়ে দেওয়া হল সুপ্রিম কোর্টও, প্রধানমন্ত্রীর পদত্য়াগের দাবিতে উত্তাল আলবেনিয়া, আঁচ এসে পড়ল ভারতের রাজনীতিতেও

কিন্তু প্রসেনজিৎকে আদালতে তোলার সময় সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিজেপি-র জেলা সভানেত্রী সীমা ভট্টাচার্যকে। তাঁর দাবি, প্রসেনজিতের স্ত্রীর গায়ে হাত দেন ওই তৃণমূলকর্মী। তাই ক্ষুব্ধ ছিলেন প্রসেনজিৎ। সীমা বলেন, “বিজেপি-র জনপ্রিয় কার্যকর্তা। ২০২২ সালে পৌরসভায় দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় থেকেই ও টার্গেট ছিল। বাড়ি করতে গেলে তোলা তুলতে এসেছিল অনিন্দ্য, ভাস্কর, দিগন্ত পালকে নিয়ে। ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে। ১৮ তারিখ বউ ঠাকুর দেখতে বেরোলে গায়ে হাত দেয়। টাকা নিয়ে নেয় ব্যাগ থেকে। সেটা নিয়ে যদি বাড়িতে গিয়ে হাতাহাতি হয়, আমি তো কোনও অন্যায় দেখছি না।” বিজেপি নেতৃত্বের ভিন্ন ভিন্ন এই মতে নতুন করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনা শুরু হয়েছে। 

গোটা ঘটনায তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “১৮ তারিখ ভোরবেলা ৪টের সময় প্রসেনজিৎ বেশ কিছু মত্ত যুবককে নিয়ে জোর করে বাড়িতে ঢুকে। বাড়ি ভাঙচুর করে, ব্যাপাক মারধর করে। ওর স্ত্রীকেও মারধর করে। ও অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। সাধারণ মানুষ।” শুধু তাই নয়, ওই দিন আরও একাধিক তৃণমূলকর্মীকে প্রসেনজিৎ মারধর করেন, বাড়িতে ঢুকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। আদালতে ঢোকার মুখে প্রসেনজিৎ বলেন, “এগুলো মিথ্যে অভিযোগ। আমার জনপ্রিয়তা খুব  বেশি হচ্ছিল বলে দলেরই লোকজন এসব করছে। কী বলব! এগুলোই হচ্ছে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *