কলকাতা: ভিড়ের চাপে পাঁজর ভেঙে কারও ফুসফুস ফেটে গেছিল, কারও মৃত্য়ু হয় শরীরের ভিতর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে, কেউ দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্য়েকেই আনন্দ করতে গেছিলেন। শবদেহ হয়ে ফিরেছেন। কী ভয়ঙ্কর পরিণতি। ভাবলেও, শরীর শিউরে ওঠে। চোরবাগানের পুজোয় যা ঘটেছে, তার তদন্তে SIT গঠন করেছে রাজ্য় সরকার। আর এই বিশেষ তদন্তকারী দলে রাখা হয়নি, কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, দমকল বিভাগ ও CESC-কে। কিন্তু কেন ? রাজ্যের এই সমস্ত বিভাগকে বাদ দিয়ে কেন SIT গঠন করল সরকার ? এই প্রশ্ন উঠতেই মুখ খুলল প্রশাসন। 

চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তে গঠিত হয়েছে SIT. তবে, এই বিশেষ তদন্তকারী দলে রাখা হয়নি, কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, দমকল বিভাগ ও CESC-কে। রাজ্য় সরকারের বক্তব্য়, তদন্তের নিরপেক্ষতার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। তদন্তে, ঘটনার দিনের CCTV ফুটেজ, মোবাইল ফোনের ভিডিও, নিহত ও আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখবে SIT. মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”এই দলে কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশকে রাখা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তা সুপারিশ করবে সামনেও আনব, ব্যবস্থাও নেব।” যদিও এই SIT গঠনকে নিছক নাটক হিসেবে দেখেছে বিরোধী শিবির। মমতা তৃণমূল কংগ্রেস-এর বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ”গোটা পুজোটায় যারা মাথা, তাদেরকে বাইরে রেখে এই লোকদেখানো SIT-র নাটক মানছি না, মানা যেতে পারে না।”

ক্রাউড ম্যানেজমেন্টে বড়সড় গাফিলতি। মণ্ডপে ঢোকা ও বেরনোর ক্ষেত্রে অপরিসর জায়গা। পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী, ভলান্টিয়ার-এর অভাব। চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে এতগুলো প্রাণ হারানোর ঘটনায়, উঠে এসেছে এমনই সব অভিযোগ। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ‘পুলিশের কিন্তু বা ভলান্টিয়ার্সদের সেরকম অ্যাক্টিভিটি ছিল না।যেটা এর আগের বছর পর্যন্ত আমি দেখেছি, যেটা এবছরে কিন্তু আমার একদম চোখে পড়েনি।’ চোরবাগানের মণ্ডপে আহত স্বজনহারা রাজেশ শ্রীবাস্তব জানান, কেউ ছিল না। কেউ ছিল না। এই সব বেকার কথা। পুলিশ এসেছে অন্তত ৪৫ মিনিট পর। 

সেদিন কী মাইকে কী ঘোষণা করা হয়েছিল ?

”প্যান্ডেলের অবস্থা খুব খারাপ, আপনারা বেরিয়ে যান, এখানে দাঁড়াবেন না। দাঁড়াবেন না, প্লিজ বলছি। বৃষ্টির দরুণ এত লোক প্যান্ডেলের ভিতরে ঢুকে গেছিল অসংখ্য মানুষ, যার কারণে প্যান্ডেলে ভিড় বেড়ে গেছে। প্যান্ডেল যখন তখন পড়ে যেতে পারে। আপনারা বেরিয়ে যান, আপনারা বেরিয়ে যান, প্যান্ডেল পড়ে গেলে পদপিষ্ট হয়ে যাবেন।” এই ঘোষণার জেরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়, দর্শনার্থীরা হুড়োহুড়ি করে বেরনোর চেষ্টা করেন। আর এতেই ঘটে যায় ভয়ঙ্কর এই ঘটনা। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *