কলকাতা: চোরবাগানের ঘটনায়, রাতারাতি অনাথ বরানগরের পৃথ্বীশ ঘোষ। দশমীতে নিহত দম্পতির পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্য়মন্ত্রী। সব রকমের সাহায্য়ের পাশাপাশি, নিহত দিলীপ ঘোষ ও দিপালী ঘোষের ছেলে পৃথ্বীশ ঘোষের অভিভাবক হওয়ার প্রস্তাব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। 

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ও (পৃথ্বীশ ঘোষ ) যদি আমার কাছে থাকতে চায়, ওকে নিয়ে কাজকর্ম ওকে গাইড করা, খানিকটা অভিভাবকত্ব যাকে বলে, গার্ডিয়ানের মতো করা, সেটা আমি ওর বাড়িতে অফার দিয়ে এসেছি।’

শনিবার চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্রাণ চলে গিয়েছে ১৯ জনের…। এক লহমায় অন্ধকার নেমে এসেছে বহু পরিবারে…। শিশু, মহিলা, পুরুষ শেষ হয়ে গিয়েছে ১৯টি তাজা প্রাণ!

এই আবহে বুধবার মৃত দিলীপ ঘোষ ও দিপালী ঘোষের বরানগরের বাড়িতে গেলেন মুখ্য়মন্ত্রী। আর্থিক সাহায্য়ের পাশাপাশি নিহত দম্পতির ছেলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন মুখ্য়মন্ত্রী।

মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই ছেলেটার (নিহত দম্পতির ছেলে) তো বাবা-মা চলে গেছে একমাত্র। ও যদি আমার কাছে থাকতে চায়, ওকে নিয়ে কাজকর্ম ওকে গাইড করা, খানিকটা অভিভাবকত্ব যাকে বলে, গার্ডিয়ানের মতো করা, সেটা আমি ওর বাড়িতে অফার দিয়ে এসেছি।  আমরাও অভিভাবক হতে পারি।’

নিহত দম্পতির আত্মীয় গোপালকুমার ঘোষ বলেন, ‘আমরা রাজি হই তবে। সিদ্ধান্ত এত তাড়াতাড়ি নেওয়া যায়? চিন্তা করতে হবে। তারপরে আমাদের আরও অনেক আত্মীয়-স্বজন আছে। আমার মেজদা আছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলব তারপরে।’

২৫ বছরে মা-বাবা হারা পৃথ্বীশ ঘোষ। রাতারাতি অনাথ। কারা কেড়ে নিল তার মা-বাবাকে? কাদের খামতি? কাদের গাফিলতি? আসল দোষীদের সাজা হবে তো? এই সব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

চোরবাগানে পুজো প্যান্ডেলে বিপর্যয়, মৃত ১৯, আহত ১৪ । সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,  “ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার আধিকারিক মৃতদেহ হস্তান্তর করবেন। ২৫ জন আহতকে নিয়ে আমরা আশ্বস্ত। ভবানী ভবনে ভার্চুয়ালি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছি, কলকাতার CP-সহ পদস্থ কর্তারা ছিলেন। প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়ার জন্য বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মৃতদের পরিবারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। দর্শনার্থীদের অসুবিধা না করে ২ দিন মৃতদের বাড়িতে যাব। জেলায় ভিড় হয় এমন বড় পুজোয় ওসি-আইসি-রা পরিদর্শন করবেন। কলকাতার ক্ষেত্রে টিম তৈরি করা হয়েছে, তাঁরা পরিদর্শন করছেন..যা সংশোধন করার দরকার, ঘটনাস্থলেই সিদ্ধান্ত নেবেন। বেশ কিছুক্ষণ লালবাজার ট্রাফিক কন্ট্রোলে থাকব, শহরের অবস্থা আমার নিজের চোখে দেখা উচিত। দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা যা যা করার করব, সরকার দায়বদ্ধ। সবাইকেই বলব, এই সময় উচিত রাজনীতি থেকে দূরে থাকা। আমি ১৩টা মৃত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানিয়েছেন, অ্যাপ ক্যাব বুক করে তাঁরাই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *