কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, দীপক ঘোষ, কলকাতা: এই নিয়ে চারবার। জবাব দেওয়ার জন্য লোকসভার সচিবালয়ের কাছে আরও ২ সপ্তাহ সময় চাইল NCPI. দুর্গাপুজোর ছুটির কারণেই সময় চাওয়া হয়েছে। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। যদিও লোকসভার সচিবালয় থেকে চিঠির পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।
প্রথমে ৭ দিন।তারপর ৩ সপ্তাহ। তারপর ১ মাস।এবার আরও ২ সপ্তাহ। সাংসদপদ খারিজ নিয়ে লোকসভার সচিবালয়ের পাঠানো চিঠির উত্তর দিতে,ফের সময় চাইলেন NCPI-তে মিশে যাওয়া বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। NCPI সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন,আমরা সময় চাইলাম। বাঙালির বড় উৎসব হচ্ছে দুর্গাপুজো। এই দুর্গাপুজোর সময়ে আমরা উৎসবে মুখর হয়ে আছি। এসব ছেড়ে তো আর পারব না। ওই জন্য আমরা এক্সটেনশন করতে বলেছি ৩ তারিখ পর্যন্ত।
বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পরই, বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী ২০ জন সাংসদ। তারপর NCPI-এ মিশে যান।এরপর বিজেপির নেতৃত্বাধীন NDA-কে সমর্থনের ঘোষণা করেন।NDA-র বৈঠকে যেতে শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট করেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা।মুখ্য়মন্ত্রীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও তাঁদের দেখায় যায়। কিন্তু, এসব ঘটলেও, খাতায় কলমে এখনও তৃণমূল সাংসদ হিসাবেই রয়ে গেছেন সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ ২০ জন সাংসদ। এরইমধ্য়ে তাঁদের সাংসদ পদ বাতিলের দাবিতে স্পিকালের কাছে এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। ২৫ অগাস্ট, ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য জানতে চেয়ে চিঠি দেয় লোকসভার সচিবালয়। ৭ দিনের মধ্যে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পয়লা সেপ্টেম্বর সেই সময়সীমা শেষের দিন, আরও ৩ সপ্তাহ সময় চান ২০ জন সাংসদ।
সেই তিন সপ্তাহের সময়সীমার শেষ হয় ২২ সেপ্টেম্বর। ফের ইমেল করে এবং লোকসভার সচিবালয়ে চিঠি দিয়ে,আরও ৪ সপ্তাহ অর্থাৎ ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চান NCPI সাংসদরা। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। ওই দিনই ফের লোকসভার সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। সূত্রের দাবি, চিঠিতে লেখা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর ছুটির কারণে চূড়ান্ত জবাব দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিনীত অনুরোধ করা হচ্ছে যে, আমাদের (NCPI সাংসদ) আরও ২ সপ্তাহ অর্থাৎ ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক।যদিও লোকসভার সচিবালয়ের থেকে এখনও কোনও উত্তর আসেনি।
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, ওরা ( NCPI সাংসদ ) একেবারে লাজলজ্জার মাথা খেয়ে নিজেদেরকে বেইমান, বিশ্বাসঘাতক প্রমাণ করে দিয়েছে মানুষের রায়ের প্রতি এবং নিজের দলের প্রতি। কিন্তু ভারতের স্পিকারকে এবার নিজের চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। এটা দুর্ভাগ্য়জনক যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে স্পিকারকে এদের শোকজ করতে হয়েছিল। এতদিন নাকি দুর্গাপুজো ছিল তাই বলতে পারছিল না কোন দলে আছে। স্পিকারও ওদের ইচ্ছেমত সময় দিয়ে যাচ্ছে। ওদের (NCPI সাংসদ ) পরিকল্পনা হচ্ছে, এই করে ২০২৯ বা সামনে লোকসভা পর্যন্ত সময় কাটিয়ে দেওয়া। এসবের মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় এই হোর্ডিংয়ের ছবিটি পোস্ট করেছেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, কলকাতার রাস্তায় দেওয়া হয়েছে এই হোর্ডিং। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দিয়ে শারদীয়া ও দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে NDA-এর
মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন,দিল্লির ধোপার বাড়ি যাওয়া ২০ জন, যাদের লজ্জা-ঘেন্না বলে কিছু নেই। তারা নাকি সাংসদ। তারা কোন দলে আছেন, সেটাই বলতে পারেন না। আবার ২ সপ্তাহ সময় চাইছেন। মানে কী? এদের তো কাউকে কাউকে তার মানে নাম জিজ্ঞাসা করলে ৩ দিন সময় নেবে। বাবার নাম জিজ্ঞাসা করলে ৭ দিন সময় নেবে। ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে ১৫ দিন সময় নেবে। এই অনৈতিক কাজটা মদত দিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। ‘
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এনসিপিআই, এনডিএ-র কাছে এসেছে। তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করেছে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে। এবারে যদি তাঁদের মধ্যে কোনও আইনি জটিলতা থাকে, সেই আইনি জটিলতাকে ঠিক করার দায়িত্ব এনসিপিআই-র। আমরা চাই ওরা আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠুক।’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা যে মামলার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল, ২৭ তারিখ মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি রয়েছে।