মুম্বই: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের নজর এড়াতে নিজের চেহারা বদলানো থেকে শুরু করে বারবার ভাড়াবাড়ি পরিবর্তন—একাধিক কৌশল নিয়েছিল বলে অভিযোগ মূল অভিযুক্ত হৃতিক কুমার ওরফে রোশন ফাইটারের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতার এড়াতেই এই পদক্ষেপ করেছিল সে।
তদন্তকারীদের দাবি, বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা হৃতিক প্রায় চার বছর আগে মুম্বইয়ে আসে। সেখানে সে র্যাপিডো চালকের কাজ করত। মুম্বইয়ে আসার আগে তার লম্বা চুল ছিল। কিন্তু টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পরিকল্পনার প্রায় দু’মাস আগে সে মাথা ন্যাড়া করে ফেলে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের অনুমান, এলাকার মানুষ যাতে সহজে তাকে চিনতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই নিজের চেহারায় এই পরিবর্তন এনেছিল অভিযুক্ত। তবে ঘটনার দিন গুলি চালানোর সময় তার চুল কিছুটা বড় হয়ে গিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
বারবার বদল ভাড়াবাড়ি
শুধু চেহারা বদল নয়, মুম্বইয়ে বারবার ভাড়াবাড়ি পরিবর্তন করার অভিযোগও উঠেছে হৃতিকের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পুলিশের নজর এড়াতেই সে একের পর এক বাসস্থান বদল করছিল।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। গ্রেফতারের পর পুলিশকে যে ঠিকানা দিয়েছিল অভিযুক্ত, সেটি তার পুরনো বাসস্থানের ঠিকানা বলে জানা গিয়েছে। ওই বাড়ি সে কয়েক মাস আগেই ছেড়ে দিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হৃতিক সাধারণত নিজের মতো থাকত এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করত না। তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তাঁরা বিস্মিত।
কীভাবে গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত?
রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। সেই সময় অভিনেতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় তাঁর চালক-সহ আরও এক ব্যক্তি আহত হন বলে জানা গিয়েছে। অভিনেতা নিজে অক্ষত থাকেন।
এই ঘটনায় হৃতিক কুমার ওরফে রোশন, হরিয়ানার রেহান এবং ফুল সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজস্থানের কোটা স্টেশনে ট্রেনে যাত্রার সময় তিনজনকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পর তারা মুম্বই ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। গোটা ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য কী এবং অভিযুক্তদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
টাইগার শ্রফের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে। অভিযুক্তদের জেরা করে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।