নয়াদিল্লি: অভিনেতা টাইগার শ্রফের উপর গুলি চলেছে। এই ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছে জেলবন্দি লরেন্স বিশ্নোই এবং তাঁর গ্যাংয়ের। জেলের ভিতরে থেকে কী করে গোটা গ্যাংকে পরিচালনা করছেন লরেন্স, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বহু দিন ধরেই। তবে লরেন্সকে ‘সাহেব’ বলে উল্লেখ করায় এবার প্রশ্নের মুখে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের যেখানে ‘দেশদ্রোহী’, ‘জঙ্গি’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার আগে দু’বার ভাবে না পুলিশ, সেখানে লরেন্সের মতো কুখ্যাত গ্যাংস্টারকে ‘সাহেব’ বলে সম্বোধন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। (Lawrence Bishnoi)
সম্প্রতি টাইগারকে লক্ষ্য করে তিন-চার রাউন্ড গুলি চলে। একেবারে কাছ থেকে পর পর গুলি চালানো হয়। টাইগার যদিও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। আহত হয়েছেন তাঁর ড্রাইভার ফিরদৌস। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লেগেছে। আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। টাইগারের উপর গুলি চলায় বিশ্নোই গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। (Delhi Police)
সেই নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে লরেন্সকে ‘সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন দিল্লি পুলিশের DCP অভিষেক ধনিয়া। তদন্তের গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে। জবাব দিতে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “এটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না আমি। তবে যে মেসেজ ছিল, যে কল ছিল, তাতে লরেন্স বিশ্নোই সাহেবের নাম নেওয়া হয়েছিল।”
“Lawrence Bishnoi Sahab” The respect Delhi Police has for gangsters… Wish they showed even 10% of this courtesy to students and activists who are doing nothing but protest. https://t.co/znv66dxoNI
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) October 19, 2026
আরও পড়ুন: বিজেপি-র টিকিটে ভোটে লড়তে চেয়ে আবেদন, খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্তের সাজা স্থগিত রাখল আদালত
DCP লরেন্সকে কেন ‘সাহেব’ বলছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও দিল্লি পুলিশের সমালোচনা করেছেন। ভিডিওটি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘লরেন্স বিশ্নোই সাহেব…গ্যাংস্টারদের কত সম্মান করে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনকারী পড়ুয়া এবং সমাজকর্মীদের যদি এর ১০ শতাংশ সম্মানও করতেন…’।
আম আদমি পার্টির X হ্যান্ডলেও ওই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। লেখা হয়, ‘টাইগার শ্রফের উপর গুলি চালানো গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোইকে অমিত শাহের পুলিশ সাহেব বলে সম্বোধন করে’।
বেশ কিছু বছর ধরেই বলিউডের ত্রাস হয়ে উঠেছে বিশ্নোই গ্যাং। লরেন্স জেলে থাকলেও, তার সহযোগী, অনুচররা কার্যত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সলমন খানের বাড়ির বাইরেও এর আগে গুলি চলেছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে শাহরুখ খানকেও। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকিকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে তারা। বাবা সিদ্দিকি শাহরুখ এবং সলমন, দু’জনেরই ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
এখন টাইগারের উপর গুলি চলায় মহারাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস যদিও সকলকে আশ্বস্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কাপুরুষরা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। হ্যাঁ কাপুরুষই। আড়ালে থেকে হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রত্যেকটি ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং পদক্ষেপ করছি। মুম্বই পুলিশ অত্যন্ত পেশাদার। শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।”
টাইগারের উপর গুলি চলার ঘটনায় ১৫টি তদন্তকারী দল গঠন করেছে মুম্বই পুলিশ। তিন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। গুজরতারে সবরমতী জেলে বন্দি রয়েছে লরেন্স। দিল্লিতেও বেশ সক্রিয় বিশ্নোই গ্যাং।