কলকাতা: হুগলি থেকে পূর্ব বর্ধমান। নবমীর সকাল থেকে, চোরবাগানে মৃতদের বাড়িতে যাচ্ছেন মুখ্য়মন্ত্রী। আজ প্রথমে তিনি যান মাধবডিহিতে। শনিবার পদপিষ্ট হয়ে যে উনিশজনের মৃত্য়ু হয়েছে, তার মধ্য়ে রয়েছেন টগর বেজ এবং তাঁর চোদ্দ বছরের ছেলে সন্দীপ বেজ। এরপর তিনি যান আরামবাগে। কথা বলেন, পদপিষ্ট হয়ে মৃত পিয়ালি প্রামাণিকের পরিবারের সঙ্গে। দুটো পরিবারের হাতেই সরকারের তরফে আর্থিক সাহায্য়ের চেক তুলে দেন মুখ্য়মন্ত্রী। পাশাপাশি, ঘটনার সঠিক তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অসহায় এই পরিবারগুলোর পাশে থাকাই সরকারের একমাত্র অগ্রাধিকার। এরপর চাকদার বাসিন্দা, মৃত আরতি সরকারের বাড়িতেও যাবেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বজনহারানো পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বৈদ্যবাটি ও বালি যাওয়ারও কথা রয়েছে মুখ্য়মন্ত্রীর।
আরও পড়ুন, কলকাতার ৫ টি মেডিক্যাল কলেজের টিম থাকবে এবার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে, কোন পথে চোরবাগানকাণ্ডের তদন্ত ?
চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ শিশু-সহ ১৯ জনের। আহত হয়েছেন ১৪ জন। এদিন মৃতদের বাড়িতে গিয়ে পরিজনদের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। মাস খানেক লাগবে প্রসেস করতে। …মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেছে, ওই মাইকে ঘোষণাটা প্যানিক করে দিয়েছে। একে বৃষ্টি ছিল, তারপরে মাইকে অ্যানাউন্সমেন্টটা …সে বিচার তো হবে, আমরা সিটিং জাজকে দিয়েছি। কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা কর্পোরেশন এলাকায় হয়েছে। তাঁদেরকে বাদ রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।এরকম কোনও উদাহরণ নেই সরকার নিজের তদন্ত, বিচারকদের করতে চেয়েছে, এমন উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গে নেই। এর আগে যেকোনও, ক্ষুব্ধ পরিবারকে কোর্টে যেতে হত।আমরা নিজেরাই বলেছি কলকাতা হাইকোর্টের চিফ জাস্টিসকে,একজন বিচারপতি দিন।’
তিনি বাইরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসনিক প্রধানের কর্তব্য পালন করছি। এরপর তিনি পাল্টা সাংবাদিকদের প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনার স্মরণে আছে নাকি, এরকম ঘটনার পরে কোথাও কোনও মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছেন ? আছে ইতিহাস ? আমি তো ফিরিয়ে দিতে পারবো না ? কিন্তু পরের দায়িত্বটা তো পালন করতে হবে। এটা তো কর্তব্যের মধ্যে পরে, অন্যজন করেনি বলে আমি করবো না, তা তো হতে পারে না। শুধু তাই নয়, আমাদের মুখ্যসচিব গতকাল প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছেন। তদন্ত কমিটি থেকে। এর আগে শতাধিক কেস রয়েছে, বিভিন্ন ঘটনাতে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাঁদেরকে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে, শুনতে হয় যে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুন, সিবিআই তদন্ত করুন। কিন্তু আমরা নিজেরাই তদন্তের ভার সিটিং বিচারপতি অথবা যাকে মনোনীত করবেন চিফ জাস্টিস ও ক্যালকাটা হাইকোর্ট , গতকালই চিঠি লিখে দিয়েছেন মুখ্যসচিব।এবং যে কমিটি তদন্ত করবে, তাতে কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন এবং কলকাতা পুলিশকে রাখা হয়নি।’