আমেরিকায়  ৯/১১ ভয়াবহতা থেকে চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়, লেডি ডায়ানার মৃত্যু থেকে ভারত মহাসাগরের সুনামি, সবকিছুর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বহু আগেই। ব্রেক্সিট এবং আইসিএসের উত্থানের ইঙ্গিতও তিনি দিয়ে গিয়েছিলেন বহু আগেই। সেই বাবা ভাঙ্গার মুখে এবার ২০২৭ এর ভবিষ্যদ্বাণী। পুরোটাই ভাইরাল দাবি। তবুও এই আলোচনায় সবাই সন্ত্রস্ত। ২০২৭ নিয়ে নাকি বড় ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন বুলগেরিয় ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। ২০২৭ সালে সোনার দাম নাকি আকাশ ছুঁতে পারে।  

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা অনুসারে, বিশ্বব্যাপী আর্থিক সঙ্কট তৈরি হলে ২০২৭ সালে সোনার দাম ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এই দাবির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। বাবা ভাঙ্গা সত্যিই ২০২৭ সালে সোনার দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এমন কোনও নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায় না। তাঁর নামে প্রচারিত বহু ভবিষ্যদ্বাণীরই নির্ভরযোগ্য লিখিত প্রমাণ নেই। বিভিন্ন সময়ে বাবা ভাঙ্গার নামে নানা কথা প্রচারিত হয়। তেমনই এটা ভাইরাল দাবি। বলা হচ্ছে, ২০২৭ সালে সোনার দাম ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে। এমনটাই নাকি বলে গিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা। তবে সোনার দাম ভবিষ্যতে কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, সুদের হার, ডলারের মূল্য, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার মতো একাধিক বিষয়ের উপর। তাই শুধুমাত্র ভাইরাল কোনও ভবিষ্যদ্বাণীর ভিত্তিতে সোনার ভবিষ্যৎ দাম সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।

১৯১১ সালে জন্মেছিলেন বুলগেরিয়ার ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। তাঁর আসল নাম ছিল ভ্যাঙ্গেলিয়া পান্দেভা দিমিত্রোভা। তিনি ছিলেন দৃষ্টিহীন। তিনি নাকি স্থানীয় স্তরে চিকিৎসাও করেছিলেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে একটি টর্নেডোর কবলে পড়ে তিনি নাকি দৃষ্টিশক্তি হারান। পরবর্তী সময়ে তিনি নাকি এমন কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন, যা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। বাবা ভাঙ্গার অনুগামীদের একাংশের দাবি, আমেরিকার ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসবাদী হামলা, চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি, ব্রেক্সিট এবং আইএসআইএসের উত্থানের মতো ঘটনাগুলি হুবহু মিলিয়ে দিয়েছিলেন। বলা হয়, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর প্রায় ৮৫ শতাংশ সত্যি হয়েছে ।  তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলির কোনও নির্ভরযোগ্য  লিখিত সংকলন নেই।                   



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *